ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে অপরিকল্পিত ইউটার্ন মারণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ১১ বছরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিসংলগ্ন এ ইউটার্নে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছে অর্ধশতাধিক মানুষ। আহত হয়েছে কয়েক শ। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ইউএনও রুবাইয়া খানম বলেন, ‘যদি ভুল ডিজাইনের কারণে বারবার দুর্ঘটনা হয়, মানুষ মারা যায় তার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ দায়ী।’ সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, ‘এখানে নতুন ইউলুপ ও মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করা হবে। এরপর কমবে সংকট।’ সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম, নোয়াখালীসহ দেশের পূর্বাঞ্চলের ১১ জেলার শতাধিক রুটের হাজার হাজার গাড়ি এ মহাসড়কে যাতায়াত করে; যা রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যায়। পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে যানজট এবং রেললাইন এড়াতে সেখানে রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ করা হয়। এটি পদুয়ার বাজারের পশ্চিমে শ্রীবল্লভপুর থেকে পূর্বে উত্তর রামপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সেটা হলে চট্টগ্রাম বন্দরসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-ফেনী অঞ্চলের গাড়িগুলো এর ওপর দিয়ে অনায়াসে যেতে পারত। তবে অপরিকল্পিত ওভারপাসের কারণে এ ইউটার্নে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। এরা বিভিন্ন জেলার লোক। ২২ নম্বর ওয়ার্ড উত্তরামপুর গ্রামের বাসিন্দা যুবদল নেতা কামরুল হাসান রায়হান বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সামনে ইউটার্নে ১১ বছরে অর্ধশতাধিক মানুষ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা গেছে। আহত হয়েছে শত শত।’
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা কৃষক সমবায় ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহম্মদ আখতার হোসাইন বলেন, ‘পদুয়ার বাজারে নিহত ২৩ জনের ঠিকানা সংগ্রহ করেছি। এ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পায়নি কোনো পরিবার। যারা নিহত ও আহত হয়েছে জননেতা মনিরুল হক চৌধুরীসহ আমরা ওই সব পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চিন্তা করছি। ক্ষতিপূরণ না পেলে আমরা আইনের আশ্রয় নেব।’ কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবাইয়া খানম বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমার উপজেলার লালবাগ মহাসড়কে দুর্ঘটনায় একজন নিহত হন। তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, এখানে যারা নিহত বা আহত হয়েছেন তাদেরও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি ভুল ডিজাইনের কারণে বারবার দুর্ঘটনা ঘটে, মানুষ মারা যায়, সেটার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ দায়ী হবে। আমরা তাদের চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবহিত করব।’ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা বলেন, ‘পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে ইউলুপ তৈরির কাজ চলমান। ৪০ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে। মহাসড়কটি ১০ লেনে উন্নীত করা হবে। তখন সমস্যাটি আশা করি আর থাকবে না।’