ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২৭ কিলোমিটার পড়েছে ফেনী জেলায়। এ অংশে রয়েছে ১৫টি ইউটার্ন। এর মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ত লালপোল পয়েন্ট। লালপোল ইউটার্নে প্রায় প্রতিদিন গাড়িচালক, যাত্রীসাধারণ ও পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হন। ঘটে প্রাণহানির ঘটনাও। আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করছেন অনেকে। যেন মারণফাঁদে পরিণত হয়েছে এ পয়েন্ট। কমবেশি ঝুঁকিপূর্ণ বাকি ১৪টি ইউটার্নও। সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঠিক তদারকি না থাকা, হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা ইউটার্নে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, লালপোলে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এই ইউটার্ন দুই উপজেলার ১৯ ইউনিয়নের অন্তত ৪ লাখ মানুষের শহরের আসার একমাত্র পথ। এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনায় অনেকে হতাহত হন। জেলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষের সুবিধা বিবেচনায় এখানে একটি ওভারপাস অথবা আন্ডারপাস নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি। ফেনী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বিনয় কুমার পাল জানান, নিরাপদ পারাপারের বিষয় বিবেচনা করে ২০২২ সালে আন্ডারপাস প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। শেষ হয়েছে ডিজাইনের কাজ। শিগগিরই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে।
সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লালপোল জেলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম রুট। লালপোল হয়ে প্রতিদিন সোনাগাজী ও সদর উপজেলার ধলিয়া, ফরহাদনগর, ফাজিলপুর, লেমুয়া, ছনুয়া, কালিদহ মোটবী ইউনিয়নসহ আশপাশের মানুষ নানা প্রয়োজনে ফেনীতে আসা-যাওয়া করেন। স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে লালপোল পাড়ি দিতে হয়। চট্টগ্রামগামী দূরপাল্লার গাড়িগুলো মহিপাল সিক্স লেন ফ্লাইওভার অতিক্রমের পর দ্রুতগতিতে লালপোল অতিক্রম করে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। লালপোলে মহাসড়ক পারাপারের জন্য রয়েছে দুটি ইউটার্ন। দুর্ঘটনা এড়াতে মূল ক্রসিংটি সম্প্রতি বন্ধ করে দেয় নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের (নিসা) শিক্ষার্থীরা। ক্রসিংয়ে ছোট গাড়ি পারাপারের ঝুঁকি সামলাতে সিএনজি মালিক সমিতি চারজন কমিউনিটি পুলিশ নিয়োগ দেয়। স্থানীয়রা জানান, গাড়ি পারাপার নিয়ন্ত্রণ করতে চারজন লোক নিয়োগ দিলেও কয়েক মাস ধরে তাদের দেখা মিলছে না।