চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্যবোঝাই করেও বসে রয়েছে প্রায় ১ হাজার লাইটার জাহাজ। অভিযোগ রয়েছে, এসব জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন অনেক আমদানিকারক। বসে থাকা বেশির ভাগ জাহাজেই রয়েছে চাল, ডালসহ রমজানের অত্যাবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্য। দীর্ঘদিন লাইটারগুলো পণ্য নিয়ে সমুদ্রে অবস্থান করায় বাজারে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া বন্দরে সমুদ্রগামী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলেও হুমকি তৈরি করছে বসে থাকা লাইটারগুলো। যেখানে-সেখানে লাইটার নোঙর করে থাকলে বড় আকারের সমুদ্রগামী জাহাজ চলাচলে সমস্যা হয়। এতে দুর্ঘটনারও আশঙ্কা থাকে।
তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, রমজান সামনে রেখে আমদানি ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে ‘ভাসমান পণ্যগুদামের’ বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। পণ্যবোঝাইয়ের পর সব লাইটারকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্দরের জলসীমা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা না হলে গ্রহণ করা হবে আইনি ব্যবস্থা। গত বুধবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। দেশের সমুদ্রকেন্দ্রিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশই হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। সাধারণত বাল্ক (খোলা) ও কনটেইনার জাহাজে করে পণ্য আমদানি করা হয়। মাদার ভেসেলগুলো (বড় আকারের সমুদ্রগামী জাহাজ) বহির্নোঙরে অবস্থান করে। সেখান থেকে বাল্ক কার্গো লাইটার জাহাজে বোঝাই করে নিয়ে যাওয়া হয় দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে। অন্যদিকে বন্দরের জেটিতে কনটেইনার ও বাল্ক কার্গো খালাস হয়। এগুলো মূলত সড়ক ও রেলপথে পরিবহন হয়। কিছু পণ্য নৌপথেও পরিবাহিত হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, বন্দরসীমার মধ্যে হাজারখানেক ছোট জাহাজ নোঙর করে আছে। এসব জাহাজে যে পণ্য রয়েছে তা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে না। পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে আমরা এসব জাহাজের বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছি। পণ্যবোঝাইয়ের পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লাইটার জাহাজকে বন্দরসীমা ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।
তবে লাইটার জাহাজ পরিচালনাসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, লাইটার জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন ঘাটে ভিড়ে। ঘাটসংকটের কারণে অনেক সময় পণ্য খালাসের সিরিয়াল পাওয়া যায় না। সেজন্য অনেক জাহাজকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও পণ্য নিয়ে বসে থাকতে হয়।