অমর একুশে বইমেলা ২০২৫-এর নীতিমালা ভঙ্গ করে প্রকাশকরা প্যাভিলিয়ন নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখলেও নীরব মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। ‘প্যাভিলিয়ন চারিদিকে আবদ্ধ থাকবে এবং এক দিক দিয়ে প্রবেশ ও অন্য দিক দিয়ে বের হওয়ার ব্যবস্থা থাকবে’ অমর একুশে বইমেলার ১১ নম্বর নীতিমালায় এমন আদেশ থাকলেও প্যাভিলিয়নপ্রাপ্ত প্রকাশকরা সেই নীতিমালার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে চারপাশ উন্মুক্ত রেখেই প্যাভিলিয়ন নির্মাণ করছেন। গত রবিবার (২৬ জানুয়ারি) একুশে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণ সরেজমিনে পরিদর্শনে নীতিমালা ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে কয়েকজন প্রশাসককে একাধিকবার ফোন করা হলেও কেউ সাড়া দেননি। কেউ কেউ আবার গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় জেনেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এদিকে প্যাভিলিয়ন নির্মাণে নীতিমালা ভঙ্গের কারণে প্রকাশকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব সরকার আমিন বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। খুব শিগগিরই ব্যবস্থা নেব।’
সাধারণ প্রকাশকদের দাবির মুখে আন্তর্জাতিক মানদ বিবেচনায় রেখে প্যাভিলিয়ন নির্মাণের নতুন নীতিমালা প্রকাশ করে বাংলা একাডেমি। নীতিমালায় উল্লেখ আছে, প্যাভিলিয়ন আবদ্ধ থাকবে এবং একদিক দিয়ে প্রবেশ ও অন্যদিক দিয়ে বের হওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
কিন্তু প্যাভিলিয়নপ্রাপ্ত প্রকাশকরা সাধারণ প্রকাশকদের দাবি উপেক্ষা করে ও অমর একুশে বইমেলা ২০২৫-এর নীতিমালার তোয়াক্কা না করে বিগত বছরগুলোর মতো প্যাভিলিয়ন নির্মাণ করছে। এ বিষয়ে প্রকাশনা সংস্থা সূচীপত্রের কর্ণধার সাঈদ বারী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসর ও স্বৈরাচার খুনি হাসিনার দালাল কালো তালিকাভুক্ত প্রকাশকদেরকে মেলায় অংশগ্রহণ থেকে দূরে রাখার জন্য বৈষম্যবিরোধী প্রকাশক সমিতি, সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী প্রকাশক সমিতি যৌথভাবে বাংলা একাডেমির কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলাম। আমাদের দাবি ছিল, ফ্যাসিবাদের দোসরদের কোনোভাবেই প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। কিন্তু পরবর্তীতে মানবিক কারণে আমরা তাদের প্রতি নমনীয় হই বলে তাদের প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু প্যাভিলিয়ন নির্মাণে তারা নীতিমালা ভঙ্গ করেছে। নীতিমালা ভঙ্গের অপরাধে বাংলা একাডেমি যদি খুব শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে আমরা পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। প্রকাশনা সংস্থা আবিষ্কার-এর দেলোয়ার হাসান বলেন, আন্তর্জাতিক মানদ অনুযায়ী প্যাভিলিয়ন নির্মাণের নিয়ম হচ্ছে চারদিক আবদ্ধ থাকার পাশাপাশি একটা প্রবেশপথ ও একটা বাহির পথ থাকবে। এতে করে মেলার সৌন্দর্য রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ প্রকাশকরাও বড় ধরনের আর্থিক লোকসান থেকে রক্ষা পাবে। কিন্তু গুটিকয়েক প্রকাশক বাংলা একাডেমির নীতিমালার তোয়াক্কা না করে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো প্যাভিলিয়ন নির্মাণ করছেন। এতে করে স্টল বরাদ্দ পাওয়া প্রকাশকরা ফুঁসে উঠছেন। তাদের গোঁয়ার্তুমির কারণে আমরা সাধারণ প্রকাশকরা কেন ক্ষতিগ্রস্ত হব?