কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে অপহৃত ১৫ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে দুই অপহরণকারীকে। গতকাল বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের মধ্যম কচ্ছপিয়ার গহিন পাহাড়ের চূড়া থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ জানান, উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং ১০ জন রোহিঙ্গা। আটক দুজন সহোদর। তারা হলেন বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া করাচিপাড়ার নুরুল কবিরের ছেলে মো. হারুন (২৫) ও নুর মোহাম্মদ (১৯)। এরা সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের সদস্য। এরা প্রলোভন দেখিয়ে অপহৃতদের পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে আটকে রাখে এবং তাদের স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করে। অপহৃতদের ১৭ দিন ধরে আটক রাখা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, দুই দিন আগে অপহরণকারীদের কবল থেকে দুই ব্যক্তি পালিয়ে আসেন। তারা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়ে বলেন, ওই এলাকায় আরও কয়েকজন আটকে রাখা হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাকিদের উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘এ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি নাগরিক ও রোহিঙ্গাদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অপরাধ চালিয়ে আসছিল। আমরা তাদের বিরুদ্ধে টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ে অপহরণ ও মানব পাচার প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছি। এ ধরনের অপরাধ নির্মূল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।’ টেকনাফসহ জেলার বিভিন্ন পাহাড়ে অপহরণ ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে বাংলাদেশি ও বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের কাজে জড়িত ছিলেন। পালিয়ে যাওয়া অপহরণকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।