পোষ্য কোটা পুনর্বহালের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের দুই দিনের কর্মবিরতি পালন করছেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এতে দাপ্তরিক কার্যক্রমে শাটডাউন চলছে। গতকাল এ কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। এদিকে কোটা জটিলতায় ঝুলে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবর্ষ ভর্তি কার্যক্রম। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন বলেন, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির আওতায় এ কর্মবিরতি পালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আলোচনায় আমরা বুঝাতে চেয়েছি, এটা কোনো কোটা নয়। অন্য সরকারি চাকরিজীবীরা যেমন সুবিধা পান, এটাও তেমনই একটি সুবিধা। আমরাও কোটার বিরুদ্ধে। তবে এ সুবিধাকে কোটা বলে বিভ্রান্ত সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। অবিলম্বে দাবি মেনে এ জটিলতা নিরসনের আহ্বানও জানান কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
এদিকে কোটা জটিলতায় ঝুলে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ সেশনের ভর্তি কার্যক্রম। গত ৫ জানুয়ারি থেকে ভর্তির প্রাথমিক আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর কথা থাকলেও কোনো কারণ উল্লেখ ছাড়াই অনির্দিষ্টকালের জন্য এ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পূর্ব ঘোষণা অনুসারে ১২ এপ্রিল ‘বি’ ইউনিট, ১৯ এপ্রিল ‘এ’ ইউনিট ও ২৬ এপ্রিল ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার দিন নির্ধারিত হয়েছে। তবে চলমান সংকটে নির্ধারিত সময়ে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ খান বলেন, চলমান সংকট নিরসনে আলোচনা চলছে। দাপ্তরিক কাজে জটিলতা বাড়ে এমন কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে, গত বছর সেপ্টেম্বর থেকেই পোষ্য কোটা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল শিক্ষার্থীরা। ফলে ৪% থেকে কমিয়ে ৩% রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১ জানুয়ারি সহায়তা ও সাধারণ কর্মচারীদের সন্তানের জন্য ১% কোটা রেখে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এ সিদ্ধান্তও প্রত্যাখ্যান করে পরদিন প্রশাসন ভবন তালাবদ্ধ করে কিছু শিক্ষার্থী এবং শতাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীকে প্রায় ১২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। এ অবস্থায় রাতেই উপাচার্য এই কোটা সম্পূর্ণ বাতিলের ঘোষণা দেন। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সম্পূর্ণ কোটা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।