আজ ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়য়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী’। ১৯৭১ সালের এদিনে রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভার উপজেলায় ‘জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে বর্তমানের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম আহসান। এর আগে ১৯৭০ সালের ২০ আগস্ট এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে ৭৫০ একর জায়গা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। ঢাকা শহরের মুঘল আমলের নাম ‘জাহাঙ্গীরনগর’ থেকে এর নামকরণ করা হয়। প্রথম ব্যাচে মাত্র ৪টি বিভাগ ও ১৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চালু হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৬টি অনুষদ ও ৩টি ইনস্টিটিউটের অধীনে ৩৭টি বিভাগে প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে ২১টি আবাসিক হল। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি তার গৌরবের ৫৪ বছর পার করে ৫৫ বছরে পদার্পণ করতে চলেছে। দীর্ঘ এ পদযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে বেরিয়েছেন দেশবরেণ্য অসংখ্য জ্ঞানীগুণী মানুষ। দেশবিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে ‘সবুজ স্বর্গ’ নামেও অভিহিত করা হয়।
সবুজ গাছপালা ও নয়নাভিরাম লেকসমৃদ্ধ এ ক্যাম্পাসে শীতে দর্শনার্থীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় অনুষঙ্গ হলো অতিথি পাখি। প্রতিবারের মতো এবারও শীতের শুরুতেই জাবির লেকগুলোয় দেখা মিলেছে অতিথি পাখির। তবে এবার অতিথি পাখির সংখ্যা তুলনামূলক কম। দর্শনার্থীর উৎপাত, লেকের পাশে খাবারের দোকানের আধিক্য ও উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজের শব্দদূষণের কারণে পাখির স্বাভাবিক বিচরণ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাখিবিশেষজ্ঞরা। ফলে পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক অন্যতম আকর্ষণ হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয়গুলোর পদ্ম ফুল। শরৎ ও হেমন্তকালে গোলাপি পদ্মে কানায় কানায় পূর্ণ থাকে পুকুরগুলো। যা খুব সহজেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামসংলগ্ন জলাশয়গুলো এবং চৌরঙ্গী মোড়সংলগ্ন জলাশয়ে সবচেয়ে বেশি পদ্ম ফোটে। তবে বর্তমানে সংস্কার ও যতেœর অভাবে পদ্মের পরিমাণ কমে গেছে।