মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে গণ অভ্যুত্থান অধিদপ্তর তৈরি হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করা হবে। এর মাধ্যমে অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারকে সাহায্য এবং তাদের পুনর্বাসনে কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। গতকাল রেলভবনে জুলাই গণ অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আর্থিক সহায়তা প্রদানবিষয়ক ব্রিফিংয়ে তিনি এমন তথ্য জানান। অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে নাহিদ ইসলাম জানান, শহীদ পরিবার ও আহতদের আর্থিক সহায়তার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৬৩৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী ৮২৬ জন শহীদ ও প্রায় ১১ হাজার আহত হয়েছেন। এই তালিকা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত হালনাগাদ হবে। আগামী সপ্তাহেই প্রাথমিক তালিকা নিয়ে একটা গেজেট প্রকাশিত হবে। এ তালিকা ধরেই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
উপদেষ্টা আরও জানান, পর্যায়ক্রমে শহীদ পরিবারকে ৩০ লাখ ও আহতদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী ৫, ৩, ২, ১ লাখ টাকা দেওয়া হবে। ২৩২ কোটি ৬০ লাখ টাকা আগামী সপ্তাহ থেকে দেওয়া শুরু করব। বাকি টাকা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে দেওয়া হবে। প্রথমে শহীদ পরিবারকে ১০ লাখ টাকা (সঞ্চয়পত্র আকারে), আহতদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী নগদ ২ লাখ, দেড় লাখ ও ১ লাখ করে টাকা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে কথা বলেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী স্নিগ্ধ। তিনি বলেন, তালিকা থেকে যারা বাদ পড়েছেন, তারা ৩১ তারিখের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। নিখোঁজ যারা আছেন, তাদের তালিকা আমরা সংগ্রহ করছি। তাদের মৃত্যুর খবর পেলে আমরা তাদের শহীদদের কাতারে লিপিবদ্ধ করছি। কবরের সন্ধান যেগুলোর পাওয়া যায়নি সেগুলো অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আমরা কাজ করছি। রায়ের বাজার কবরস্থানে ১৩১টি বেওয়ারিশ কবরের সন্ধান পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।