নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে ভ্যান চালক হাবিবুর রহমানের বিকৃত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। একই সাথে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত এক নারীসহ অপহরণকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মোহাম্মদ হাসিনুজ্জামান এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত সোমবার রাতভর ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ।
গ্রেফতাররা হলো- পটুয়াখালীর মাদারবুনিয়া এলাকার মো. ইউসুফ আকনের ছেলে কবির ওরফে সগির হোসেন (৩৮), মুন্সিগঞ্জের হাতিমারার মজিদ আলী সৈয়ালের মেয়ে রেহেনা বেগম (২৫), নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার চর ইসলামপুরের আসমত আলীর ছেলে আরিফ (২৫), মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানার দানেছপুরের মৃত জলিল মিয়ার ছেলে সিদ্দিক (৫২) ও পটুয়াখালীর হাজীখালা এলাকার আব্দুল সাত্তার পেয়াদার ছেলে নুরুজ্জামান (৩৫)।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মোহাম্মদ হাসিনুজ্জামান বলেন, গ্রেফতার দম্পত্তি কবির ওরফে সগির হোসেন ও রেহেনা বেগম বিভিন্ন স্থানে ঘর ভাড়া নিয়ে মোবাইল ফোনে যুবক-পুরুষদের সাথে সম্পর্ক করে বাসায় ডেকে এনে মুক্তিপণ আদায় করতো। তারই অংশ হিসেবে নিহত হাবিবুরের সহযোগী ও গ্রেফতার কবির ওরফে সগিরের চাচাতো ভাই নুরুজ্জামানের মাধ্যমে নিহতের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শারীরিক মেলামেশার প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় ডেকে আনে।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে মুক্তিপণ আদায়ে নিহতের পরিবারের নিকট টাকা দাবি করে হাবিবুরকে নির্যাতন করে। হাবিবুর চিৎকার করলে অপর আসামিদের সহায়তায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। সেই সাথে ঘরের ভিতর লাশ ফেলে তালাবদ্ধ করে তারা সবাই পালিয়ে যায়।
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি ফতুল্লার পঞ্চবটি শীষমহল আমতলা এলাকার স্বপন সরকারের ভাড়াটিয়া বাসা থেকে একটি বিকৃত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ঐদিন রাতেই নিহত হাবিবুরের বাবা তার ২১ বছর বয়সী ছেলের লাশ সনাক্ত করে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন। তার আগে ২৫ জানুয়ারি নিহতের বাবা মো. আজিজুল হক বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় জিডি করেছিলেন।
জিডিতে আজিজুল হক উল্লেখ করেছিলেন, গত ২৪ জানুয়ারি রাত ৮ টার দিকে হাবিবুর দাপা পোস্ট অফিসরোডের ভাড়া বাসা থেকে বের হয়। পরে রাত দশটার দিকে তাকে ফোন করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করা হয়, অন্যথায় তার ছেলেকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে অপহরণকারী মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
বিডি প্রতিদিন/জামশেদ