হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কালনী গ্রামে চাঞ্চল্যকর সৌদি প্রবাসী দিপু মিয়া হত্যা মামলায় ৩৭ জন আসামিকে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. দোলোয়ার হোসেনের আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত জামিন না-মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
এনিয়ে এই মামলায় ৬০ জন আসামির মধ্যে ৪৩ জন কারাগারে গেল। এর আগে একই মামলায় জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৬ আসামিকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে র্যাব।
জানা যায়, ওই গ্রামের পঞ্চায়েত সর্দার কাজী ফরিদ মিয়ার সাথে একই গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য লুৎফুর রহমান সাস্তু মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে গত ২২ জানুয়ারি বিকেলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে অন্তত ২৫ জন আহত হয়। এরমধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় সৌদি ফেরত প্রবাসী দিপু মিয়াকে উদ্ধার করে জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে এ ঘটনায় নিহতের ভাই কাজী সজলু মিয়া বাদী হয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট এমএ মজিদ বলেন, প্রবাসী দিপু মিয়া হত্যাকাণ্ড একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। তাকে ৩০ থেকে ৩৫টি আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এই মামলায় আরও আসামি পলাতক রয়েছে। তাদেরকেও আইনের আওতায় এনে দৃষ্ঠান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, দিপু হত্যা মামলায় আজ ৩৭ জন আদালতে হাজির হয়েছিল। আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে, সকাল ১০টায় দিপু মিয়া হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আদালত চত্বরে মানববন্ধন করেছে তার স্বজনরা। এ সময় তারা নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বিডি প্রতিদিন/জামশেদ