ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী বার্তা বয়ে আনতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত হয়েছে ''ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ বসন্ত উৎসব ১৪৩১'।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে ষষ্ঠবারের মতো আয়োজিত হয় এবারের বসন্ত উৎসব।
দিনব্যাপী এই উৎসবে প্রাণ পেয়েছে বাংলার মাটি ও মানুষের চিরায়ত ঐতিহ্য। রঙ, সুর ও আনন্দের এই অপূর্ব সমন্বয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে বয়ে যায় বসন্তের মাধুর্যপূর্ণ আবহ। গ্রামীণ লোকজ মেলা যেন নগর জীবনের কোলাহলে হারিয়ে যাওয়া এক টুকরো শৈশবকে ফিরিয়ে আনে। মেলার প্রতিটি আয়োজনে ছড়িয়ে ছিল বাংলার লোক-সংস্কৃতির প্রাণস্পন্দন। রঙিন নাগরদোলার ঘূর্ণিতে মেশে উচ্ছ্বাস, পুতুল নাচের ছন্দে দোলা লাগে শিশুমনে আর বায়োস্কোপের ফ্রেমে ধরা পড়ে হারিয়ে যাওয়া দিনের গল্প।
পুঁথিপাঠের সুরেলা আবৃত্তি আর কীর্তনের ভক্তিময় সুর মিলিয়ে তৈরি হয় এক অপূর্ব আবহ। হাতে তৈরি অলংকার, নকশাদার পোশাক আর দেশীয় খাবারের বাহারি পসরায় মেলা যেন হয়ে ওঠে এক মাটির মঞ্চ, যেখানে মিশে যায় বাংলার প্রাণের ছোঁয়া। সন্ধ্যার পর উৎসব পায় নতুন মাত্রা, তারকা শিল্পীদের সুরেলা সংগীত, নৃত্যের মুদ্রা আর আবৃত্তির আবেগে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। শহরের ব্যস্ততার মাঝে এই আয়োজন যেন হয়ে ওঠে এক ফেলে আসা দিনের স্মৃতিচিত্র, যেখানে মিশে ছিল মাটির সুর, লোকজ সংস্কৃতির সৌরভ আর বসন্তের অফুরন্ত উচ্ছ্বাস।
এবারের আলোচনা ও গুণীজন সম্মাননা পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে গুণীজন সম্মাননা গ্রহণ করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম, অভিনয় ও নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসকিউ গ্রুপের সিইও ও এমডি মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভা প্রধান হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের মডারেটর এবং 'নৃবিজ্ঞান' বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাশেদা রওনক খান।
আলোচনা সভা শেষে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের শিল্পীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সবশেষে ছিল কনসার্টে ব্যান্ড 'বায়োস্কোপ' এবং 'গানের দল ও এর দল ও কৃষ্ণকলি'র সঙ্গীত পরিবেশনা।
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত