রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত ও এক ছাত্রের ছাত্রত্ব বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩৬তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পাঠানো পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বরখাস্তকৃত শিক্ষকরা হলেন-বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অনীক কৃষ্ণ কর্মকার ও আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলাম। এদিকে, ছাত্রত্ব বহালকৃত শিক্ষার্থীর নাম রফিকুল ইসলাম। তিনি ফলিত গণিত বিভাগের ২০০৭-২০০৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র।
এর আগে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ড. অনীক কৃষ্ণের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, মানসিক নির্যাতন, পছন্দের শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্ন ফাঁসসহ বেশকিছু অভিযোগ এনে আন্দোলন হয়। সাদিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় এবং তদন্ত কমিটি গঠন করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেট সভায় অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে অনীক কৃষ্ণ কর্মকারকে সাময়িক বরখাস্ত এবং সাদিকুল ইসলামকে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ বিষয়ক অভিযোগ কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে বরখাস্ত আদেশ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট, ১৯৭৩ এর ৫৫(৩) ধারায় হওয়ায় চার্জ গঠন ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৃথক ইনকোয়ারি কমিটি গঠিত হয়েছে।
এদিকে, ফলিত গণিত বিভাগের ২০০৭-২০০৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলামের মাস্টার্সের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের মাধ্যমে ছাত্রত্ব বাতিল বিষয়ে গঠিত রিভিউ কমিটির প্রতিবেদন বিবেচনা করে তার ছাত্রত্ব পুনর্বহাল ও তার পরীক্ষার অপ্রকাশিত ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর আগে, ৪৬১তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে এই শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়।
বিডি প্রতিদিন/এমআই