রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শহিদ হিমেল দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার তার স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়।
এ ব্যাপারে সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি রায়হান ইসলাম বলেন, সাংস্কৃতিক অঙ্গণের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন শহিদ হিমেল। নাট্যকর্মী হিসেবে তার ক্যাম্পাসে ছিল সুখ্যাতি। ক্যাম্পাসে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। তবে এই দুর্ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা ছিল না। ক্যাম্পাসের ভেতরে বেপরোয়া গাড়ির গতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই সেদিন এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফলে সাংস্কৃতিক অঙ্গণ থেকে চিরতরে নিভে যায় এক নক্ষত্র। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি এবং হিমেলের আত্মার শান্তি কামনা করেন তিনি।
এতে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য রায়হান ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক যুনাঈদ ইসলাম, জোটভুক্ত সংগঠন তীর্থক নাটকের সভাপতি সৌরভ, স্বননের আহ্বায়ক মিজান শেখ, সমকাল নাট্যচক্রের সভাপতি রিন্টুসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
এর আগে, ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ হবিবুর রহমান হল সংলগ্ন মোড়ে বেপরোয়া গতিতে চলা ট্রাক চাপায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করেন হিমেল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক্স ডিজাইন ক্র্যাফটস অ্যান্ড হিস্টোরি অফ আর্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন।
এ ঘটনায় তৎক্ষনাৎ তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী এ ঘটনাকে হত্যা আখ্যা দিয়ে নির্মাণাধীন ভবনে ভাঙচুর ও পাঁচটি ট্রাকে আগুন দেন। প্রশাসনের দায়িত্বের অবহেলার অভিযোগ তোলে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আন্দোলন করেন এবং ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন। সেদিন রাতেই পদত্যাগে বাধ্য হন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিয়কত আলী।
বিডি প্রতিদিন/এমআই