ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকেও গ্রুপপর্বে বিদায় নিশ্চিত ইংল্যান্ডের। করাচি ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে শুধুই নিয়মরক্ষার ম্যাচে তারা কাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবে। মাঠের বাইরে দাবি, ‘বাটলার হটাও, দল বাঁচাও’। এমন দুঃসময়ের মধ্যে শেষটা তারা কতটা ভালো করতে পারবে সেটি দেখার অপেক্ষা। বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকার সেমিফাইনালের প্রায় সহজ। আজ অস্ট্রেলিয়া-আফগানিস্তানের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছে তারাও।
অজিদের কাছে আফগানরা হারলে দক্ষিণ আফ্রিকার সেমিফাইনাল এমনিতেই নিশ্চিত। আর অস্ট্রেলিয়া হেরে গেলে, তাদের সমান ৩ পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে প্রোটিয়ারা। অজিদের চেয়ে নেট রান রেটে অনেক এগিয়ে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা কাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলে আর কোনো ‘যদি-কিন্তু’ থাকবে না। আর যদি হেরেও যায়, তবে সেটি বেশ বড় ব্যবধানেই হারতে হবে, তাহলেই অজিদের সেমির সুযোগ থাকবে।
সেমির স্বপ্নভঙ্গ হওয়ায় হতাশা জেঁকে বসেছে ইংল্যান্ড দলে। অনুশীলন বাদ দিয়ে এ দুদিন তাদের কাটছে বিশ্রামে। এর মধ্যে বাটলারের অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়ার দাবি, সাবেকদের সমালোচনার তীর। বিধ্বস্ত দলটির অধিনায়ক আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারের পরই বললেন, ‘সত্যি বলতে এটা খুবই হতাশাজনক ব্যাপার। অনেক সুযোগ এসেছিল আমাদের সামনে। আমরা সেটাকে কাজে লাগাতে পারিনি। টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ায় আমরা খুবই হতাশ। আগামী ম্যাচই আমার চিন্তার বিষয়।’ আর নেতৃত্বের প্রশ্নে বললেন, ‘আমি কি সমস্যার অংশ নাকি সমাধানের? আমার মনে হয়, এটাই আমাকে খুঁজে বের করতে হবে।’
অগোছালো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তি বাড়াতে একাদশে ফিরছেন হেনরিখ ক্লাসেন। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও ইংলিশদের খাটো করে দেখার সুযোগ নেই বললেন প্রোটিয়া কোচ রব ওয়াল্টার, ‘বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন লিগে তারা (ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা) ভালো পারফর্ম করে, যেকোনো কন্ডিশনের সঙ্গে তারা মানিয়ে নিতে পারে। যদি শুধু কাগজে কলমে দলের নামগুলো দেখেন, তাহলে বুঝবেন দলটিতে অনেক মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে। ক্রিকেট কখনো কখনো অদ্ভুত খেলা এবং এ কারণেই মাঝে মাঝে দল হেরে যায়।’
ক্লাসেনের ফেরা প্রসঙ্গে ওয়াল্টার বলেন, ‘সে সত্যিই দুর্দান্ত খেলোয়াড়, তাই না? তার দক্ষতা বর্তমানে বিশ্বের সেরাদের মধ্যে অন্যতম, এটা আমরা সবাই স্বীকার করি। দলে তার মতো একজন খেলোয়াড় থাকা দারুণ ব্যাপার। আমরা জানি সে কতটা বিধ্বংসী হতে পারে।’ চোটের কারণে গ্রুপ পর্বে নিজেদের আগের দুই ম্যাচে একাদশের বিবেচনায় ছিলেন না ক্লাসেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ৪ ম্যাচের তিনটিতেই জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগে ৪ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে দুটি করে জয় পেয়েছে দুই দলই। কিন্তু প্রোটিয়ারা ২০০০ সালেই সবশেষ ইংলিশদের বিপক্ষে জিতেছিল।
বিডি প্রতিদিন/আশিক