তিনি আসছেন। তিনি আগেও এসেছেন। আসা-যাওয়ার সেই হিসেব কে-ই বা রেখেছে! এবারের আগমন সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম। এই আগমনের উদ্দেশ্য ভিন্ন। কেবল পূর্ব পুরুষদের ঘরদোড় দেখা নয়। সবুজ-শ্যামল বাংলার ছবি দেখে মুগ্ধ হওয়ার জন্যও নয় এ আগমন। এবার আসছেন লাল-সবুজ জার্সি গায়ে ফুটবলের উঠোন মাতিয়ে তুলতে। এ কারণেই হামজা দেওয়ান চৌধুরীর এবারের আগমনে মিশে গেছে অনেক রং। অনেক স্বপ্ন। বাংলাদেশের ফুটবলে দিন বদলের নানা গল্প। এ কারণেই তার আগমনের খবরে নেটিজেনরা দিনরাত এক করে নানা আলোচনায় মেতে আছেন। দেশের ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। সব ঠিক থাকলে আজ সকালেই সিলেটের এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন হামজা। যাবেন হবিগঞ্জে পূর্ব পুরুষের বাড়িতে। এরপর আসবেন ঢাকায়। যোগ দিবেন জাতীয় দলের ক্যাম্পে। শুরু হবে বাংলাদেশের ফুটবলে এক নতুন অধ্যায়। হামজা চৌধুরীকে নিয়ে গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে এত বেশি আলোচনা হয়েছে, তার নতুন করে পরিচয়ের প্রয়োজন নেই। লিস্টার সিটিতেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ছিলেন ক্লাবের ইয়ুথ টিমে। যে বছর লিস্টার সিটি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জিতে ইতিহাস গড়ল ঠিক সেই বছরই সিনিয়র দলে নাম লেখান হামজা। তবে লোনে খেলতে চলে যান বুরটন আলবিওনে। না হলে হামজা চৌধুরীর নামের পাশেও থাকত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা। তবে এফএ কাপ এবং কমিউনিটি শিল্ড জয় করাও তো বিরাট ব্যাপার। পৃথিবীর ক্লাব ফুটবলে অন্যতম দুটি ট্রফি তার ঝুলিতে। বর্তমানে খেলছেন শেফিল্ড ইউনাইটেডে। এবারেও ধারে। এই ক্লাবেও নিজের স্থান পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন। গতকাল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় ছিল তার ম্যাচ। সেই ম্যাচ খেলেই সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা হামজার। উদ্দেশ্য এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে ভারতের মুখোমুখি হওয়া। শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে আগামী ২৫ মার্চ বাছাইপর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-ভারত।
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আওয়াল বলেছেন, হমজা সোমবার আসবেন। প্রথমে সিলেট হয়ে হবিগঞ্জ যাবেন। তারপর ঢাকায় এসে দলের সঙ্গে যোগ দিবেন। বাফুফে সহসভাপতি ফাহাদ করিম বলেছেন, হামজার আগমন উপলক্ষে সব কিছু ঠিক করা আছে। বাফুফের পক্ষ থেকে সিলেটেই হামজাকে স্বাগত জানানো হবে। ১৯ মার্চ মিডিয়ার সামনে আসবেন হামজা। বাংলাদেশের ফুটবল দর্শকরা এর আগেও অনেক তারকা দেখেছেন। কাজী সালাউদ্দিন, আসলাম, মুন্না, কায়সার হামিদের মতো তারকারা ফুটবলের মাঠ মাতিয়েছেন। তবে ভিন দেশে বেড়ে ওঠা এক ফুটবলারকে নিয়ে এতটা মাতামাতি কখনোই হয়নি বাংলাদেশে। এর কারণ অনেক। হামজা নিজের নামটা ভালোভাবেই বিশ্ব ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ইংল্যান্ডের যুব দলে খেলাও তো কম কথা নয়! তবে এটাও প্রধান কারণ নয়।
কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশের ফুটবল ছিল ধ্বংসস্তূপের নিচে। ভুটানের মতো দলও চোখ রাঙিয়ে শাসন করে যেত! হারিয়ে দিত অবলীলায়। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দলটাকে টেনে তুলেছেন কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। তপু বর্মণ, জামাল ভূইয়া, রাকিব, মোরসালিনরা হয়ে উঠেছেন নতুন তারকা। তারপরও ফুটবলে আশার আলো ছিল অনেক দূরে। হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের হয়ে খেলার সব ছাড়পত্র পেতেই সেই আশার আলো এক লাফে চলে এলো চোখের সামনে। এদেশের ফুটবলপ্রেমীরা দেখতে লাগলেন নানা রঙের স্বপ্ন। সেসব স্বপ্ন কতটা বাস্তব রূপে ধরা দিবে তা কেবল সময়েই জানা যাবে। তবে হামজা চৌধুরী এমন এক আলোকবর্তিকার নাম, যার পায়ের স্পর্শে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের ফুটবল। এগিয়ে যেতে পারে বহু যুগ সামনে। এমন এক ফুটবল তারকার জন্য নানা আয়োজন তো থাকবেই। হামজাকে স্বাগত জানাতে বাংলাদেশের মানুষ ফুলের ঢালি হাতে অপেক্ষায় আছে। সমর্থকদের ভিড়ের ভিতর তাকে নিরাপত্তা দিতে সিলেটের পুলিশও প্রস্তুত।