বোলিংয়ে নেই প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড, মিচেল স্টার্ক। ব্যাটিংয়েও নেই দুই ভরসা মার্ক স্টয়নিস, মিচেল মার্শ। তারপরও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শনিবার ‘ইংলিশম্যান’ জশ ইংলিসের ব্যাটিং তান্ডবে ইংল্যান্ডকে সহজেই হারিয়েছে। স্টিভ স্মিথের অস্ট্রেলিয়া আজ রাওয়ালপিন্ডিতে নামছে সেমিফাইনালের পাইপলাইনে নাম লেখাতে। একই সমীকরণ প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকারও। টেম্বা বাভুমার দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাত্তাই দেয়নি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে প্রথমবার খেলতে আসা আফগানিস্তানকে। অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রোটিয়াসদের কাছে ম্যাচটি সমান গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচে যে দল জিতবে উঠে যাবে ‘এ’ গ্রুপ শীর্ষে এবং সেমিফাইনালের পথে এক পা দিয়ে ফেলবে। দুই দল এখন পর্যন্ত ১১০ বার পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে। কিন্তু এই প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিখে পরস্পরের বিপক্ষে খেলবে। অথচ দুই দল ১৯৯৮ সালের প্রথম আসর থেকেই খেলছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। দুই দলের লড়াইয়ে ৫৫ জয় নিয়ে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। অস্ট্রেলিয়ার জয় ৫১টি। ৩ ম্যাচ টাই হয়েছে। এবং একটিতে ফল হয়নি।
করাচিতে রশিদ খান, মোহাম্মদ নবীদের আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটিকে একপেশে করে ফেলেছিল প্রোটিয়াসরা। ওপেনার রায়ান রিকেলটনের সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ৩১৫ রান করে। জবাবে ২০৮ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান। প্রোটিয়াস ওপেনার রিকেলটন ১০৩ রান করেন। বাভুমা ৫৮, ভ্যান ডার রুসেন ৫২ ও এইডেন মার্করাম অপরাজিত ৫২ রান করেন। স্মিথ বাহিনীর বিপক্ষে হেভিওয়েট ম্যাচে ছন্দে থাকা চার ব্যাটারের দিকে তাকিয়ে থাকছে প্রোটিয়া টিম ম্যানেজমেন্ট। ডেভিড মিলার ও মার্কো জেনসেন ব্যাটিং করেন বিধ্বংসী মেজাজে। দলটির দুই পেসার কাগিসো রাবাদা ও লুঙ্গি এনগিডি রয়েছেন ছন্দে।
ইংল্যান্ডের আকাশছোঁয়া স্কোর হেসে খেলে টপকে গেছে ছয়বারের ওয়ানডে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। বেন ডাকেটের রেকর্ড ১৬৫ রানে ভর করে ৮ উইকেটে ৩৫১ রান করে ইংল্যান্ড। ব্যক্তিগত ও দলগত স্কোর দুটিই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির রেকর্ড। বেন ডাকেট ভেঙেছেন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৪৫ রানের রেকর্ড। আগের রেকর্ড ছিল নাথান অ্যাস্টল ও অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের। আগের সর্বোচ্চ দলগত স্কোর ছিল নিউজিল্যান্ডের ৪ উইকেটে ৩৪৭। অস্ট্রেলিয়া আবার রান তাড়া করে রেকর্ড গড়েছে। ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ইংলিস ৮৬ বলে ৮ চার ও ৬ ছক্কায় ১২০ রান করলে ১৫ বল হাতে রেখে সহজ জয় তুলে নেয়। আজকের হেভিওয়েট ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্য নির্ভর করছে ইংলিস, স্মিথ, মারনাস লাবুশেন, অ্যালেক্স কেয়ারি, গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ব্যাটিংয়ের দিকে। দলটির বোলিং বিভাগ অবশ্য অনভিজ্ঞ।