নাজমুলদের দুবাই অধ্যায় প্রায় শেষ, বলাই যায়। বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মিশন শুরু হয়েছে দুবাইয়ে। ভারতের বিরুদ্ধে ৬ উইকেটে হেরেছে নাজমুল বাহিনী। মরুশহরে টাইগারদের আর কোনো ম্যাচ নেই। সেই অর্থে টাইগারদের দুবাই মিশন শেষ বলাই যায়। কিন্তু ক্রিকেট যদি হয় অনিশ্চয়তার খেলা এবং নাজমুলের স্বপ্ন যদি পূরণ হতে হয়, তাহলে ফের দুবাইয়ে খেলা হতে পারে। কারণ, দুই সেমিফাইনালের একটির ভেন্যু ‘মরুশহর’ দুবাই। ফাইনালের দুই ভেন্যুর একটি দুবাই। মরুশহরের ফাইনাল হতে হলে ভারতকে ফাইনাল খেলতে হবে। এমন অদ্ভুত সমীকরণের বাস্তব রূপ নেওয়ার আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখন রাওয়ালপিন্ডিতে। এখানে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপ পর্বের বাকি দুটি ম্যাচ খেলবেন নাজমুলরা। ২৪ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ড এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ। ২০১৭ সালের পর টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল খেলতে টাইগারদের রাওয়ালপিন্ডির ম্যাচ দুটি জিততেই হবে।
ভারত ম্যাচে টপ অর্ডার ব্যাটিং লাইন ছিল পুরোপুরি বিধ্বস্ত। প্রথম দুই ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। ৮.৩ ওভারে ৩৫ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় চলে আসে। সেখান থেকে তাওহিদ হৃদয় ও জাকের আলি অনিক ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে রেকর্ড গড়েন ১৫৪ রান যোগ করে। ২০৬ বলে দুজনের গড়ার জুটিটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ষষ্ঠ উইকেটে সেরা। একই সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে বাংলাদেশেরও সেরা। টপ অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে সেঞ্চুরি করেন হৃদয় এবং হাফসেঞ্চুরি করেন জাকের। ভারতের বিপক্ষে হারলেও সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে টপ অর্ডারকে ছন্দে ফিরতে হবে। মিডিয়ার মুখোমুখিতে টপ অর্ডারের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশার কথা বলেন ১১৪ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলা জাকের আলি, ‘রাওয়ালপিন্ডির উইকেট নিয়ে আমরা আশাবাদী। আশা করি আমাদের টপ অর্ডার ওখানে রান করবে। ওপেনাররা রান পেলে কাজটা সহজ হয়ে যায়। উইকেট ভালো আছে, যা আমরা সর্বশেষ পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে দেখেছি। ভালো উইকেট পেলে আমরা দল নিয়ে আশাবাদী।’ ভারত ম্যাচে টপ অর্ডারে ওপেনার সৌম্য সরকার, অধিনায়ক নাজমুল ও মুশফিকুর রহিম শূন্য রান করেন। আরেক ওপেনার তানজিদ তামিম ২৫ ও সহ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ৫ রান করেন। টপ অর্ডারের পাঁচ ব্যাটারের মোট রান ৩০! এদের মধ্য থেকে ব্যক্তিগত বড় স্কোর ও বড় জুটি গড়তে হবে।
রাওয়ালপিন্ডি অপরিচিত ভেন্যু নয় টাইগারদের কাছে। যদিও এখানে একটি মাত্র ওয়ানডে খেলেছে এবং টেস্ট খেলেছে ৩টি। যার সর্বশেষ দুটি খেলেছে গত সেপ্টেম্বরে। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দুটি টাইগাররা জিতেছিল যথাক্রমে ৬ ও ১০ উইকেটে। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা সাফল্য। সিরিজটির বিবেচনায় উইকেটের চরিত্র সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রয়েছে নাজমুলদের। রাওয়ালপিন্ডিতে একমাত্র ওয়ানডেটি খেলেছিল ২২ বছর আগে ২০০৩ সালে। ৮ উইকেটে ২২২ রান করে ৫ উইকেটে হেরেছিল ম্যাচটি। রাওয়ালপিন্ডির উইকেটে রান ওঠে। ৭টি ইনিংসে তিনশোর্ধ্ব স্কোর হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে প্রথম টেস্টে ২৬ রান ৬ উইকেট হারানোর পর ঘুরে দাঁড়িয়ে টেস্টটি জিতেছিল নাজমুল বাহিনী। রাওয়ালপিন্ডির উইকেটে ব্যাটারদের মতো পেসাররাও সুবিধা পেয়ে থাকেন।
ভারত ম্যাচে হৃদয় ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটি করেন মাসল পুল নিয়ে। ব্যক্তিগত ৯১ রানের সময় পানি শূন্যতায় মাসল পুল করে হৃদয়ের। এরপর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে সেঞ্চুরি করেন তিনি। মিডল অর্ডারের অন্যতম ভরসা হৃদয় সাবলিল স্ট্রোক খেলে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক, ওপেনার ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা নিজের ইউটিউভ চ্যানেল ‘রমিজ স্পিকস’-এ তাওহিদ হৃদয়কে বাংলাদেশের অমূল্য এক সম্পদ বলেন, ‘বাংলাদেশ যে অবস্থায় ছিল, মনে হচ্ছিল ১০০ রানও হয়তো করতে পারবে না। কিন্তু সেখান থেকে ইনিংসটাকে টেনে নেওয়াটা দারুণ ছিল। ভারতের মতো শক্তিশালী বোলিং লাইনআপের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করা অনেক দুর্দান্ত ব্যাপার। হৃদয় অনেক নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়। সে যদি নিজেকে সময় দেয়, তাহলে ধারাবাহিকভাবে এমন বড় ইনিংস খেলতে পারবে। হৃদয়ের মাঝে দারুণ সম্ভাবনা আছে। সে বড় শটস খেলতে পারে। আগ্রাসী মনোভাব আছে এবং রানিং বিটুইন দ্য উইকেটও ভালো। মিডলঅর্ডারে বাংলাদেশ অমূল্য এক সম্পদ পেয়েছে।’