ফুটবলে খেপ শব্দটা খুবই পরিচিত। যাকে ভাড়াটিয়া খেলোয়াড় বলা হয়। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ফুটবলে নানা টুর্নামেন্ট হচ্ছে। গ্রামেগঞ্জে প্রতিটি ম্যাচেই উপচেপড়া দর্শকের সমাগম ঘটছে। প্রশ্ন উঠেছে এ খেপ কি এখন বৈধ? এক সময়ে সিনিয়র ডিভিশনে খেলা ফুটবলাররা অহরহ খেপ খেলতেন। এ তালিকায় অনেক প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়ও রয়েছেন। খেপে কয়েক বছর ধরেই বিদেশি ফুটবলারদের ভিড়। এখানে আফ্রিকানদেরই সংখ্যা বেশি। একেবারে অচেনা ও অজানা ফুটবলার। কখনো কোনো ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। অথচ এসব বিদেশিকে খ্যাতনামা ও আফ্রিকার তারকা বলে মাইকিংয়ে প্রচার করা হচ্ছে। সহজ-সরল দর্শকরা না বুঝেই টিকিট কেটে তাদের খেলা দেখতে ছুটে যাচ্ছেন। প্রতারণার শেষ পর্যায়ে চলে গেছে। অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব ভূমিকা পালন করছে। হয়তো বা এখানে তাদের স্বার্থ রয়েছে। জানা গেছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা আফ্রিকান শিক্ষার্থীরা মূলত স্থানীয়ভাবে আয়োজিত টুর্নামেন্টে খেলছেন। অথচ তাদেরই তারকা ফুটবলার বলে প্রচার করা হচ্ছে।
খেপে ইনজুরির শিকার হয়ে পরিচিত বেশ কয়েকজন স্থানীয় ফুটবলারের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে। প্রশ্ন হচ্ছে খেপ নিয়ে এত আলোচনা কেন? একজন ফুটবলার যদি তা খেলে থাকেন তা কি অবৈধ? বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় যে লিগ বা টুর্নামেন্ট হয়ে থাকে সেসব খেলোয়াড়দের খেপ খেলা নিষিদ্ধ। কেননা তারা ক্লাবের রেজিস্ট্রেশন ও চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়। তবে বাফুফের কোনো লিখিত নির্দেশনামা না থাকায় খেপ খেলতে সমস্যা হতো না। ঢাকা প্রথম বিভাগ ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ফাঁক পেলেই খেপ খেলতেন। এখানে বাড়তি কিছু আয় হতো।
পেশাদার ফুটবল লিগে ক্লাবের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়রা কোনো অবস্থায় খেপ খেলতে পারবেন না। ফিফার আইনে নিষিদ্ধ। যদি অমান্য করা হয় তাহলে শুধু সংশ্লিষ্ট ফুটবলার নয়, ক্লাবও শাস্তির আওতায় আসবে। পেশাদার যুগে প্রবেশ করার পরও তা কি বন্ধ হয়েছে? বড় বা ছোট ক্লাবের খেলোয়াড়রা অনায়াসে খেপ খেলে যাচ্ছেন। এমনকি এর মধ্যে বিদেশিরাও রয়েছেন। ক্লাব কর্মকর্তারা এখন এতটাই অসহায় খেপ খেলাটা যেন বৈধতায় পরিণত হয়েছে। এ ব্যাপারে ঢাকা মোহামেডান ফুটবল দলের ম্যানেজার সাবেক তারকা ফুটবলার ইমতিয়াজ আহমেদ নকিব বলেন, ‘আমার ক্লাবের খেলোয়াড়রা খেপে নেই। হয়তো অগোচরে ২/১ জন খেলতেও পারেন। এখানে কী বা করব। ঠিকমতো বেতন দিতে পারছি না। চরম অর্থ সংকটে ক্লাবগুলো। বাফুফের কাছে কয়েক বছর ধরে অংশগ্রহণ মানি জমা আছে। এ নিয়ে তাদের কোনো উদ্যোগই দেখছি না। এই অভাবের মধ্যে কোনো ক্লাবের খেলোয়াড়রা যদি খেপ খেলে তাহলে কী ব্যবস্থা নেব।’ নকিব কোনো ক্লাব বা খেলোয়াড়ের নাম উল্লেখ করেননি। বাস্তবতা হচ্ছে প্রথম লেগের পর অনেক খেলোয়াড়ই খেপ খেলছেন। বাফুফে এখানে কী করবে? আগে তো অভিযোগ আসতে হবে, তারপর শাস্তির প্রসঙ্গ উঠবে।