শক্তি, সামর্থ্য যেমনই থাকুক, স্বপ্ন দেখতে হবে আকাশছোঁয়া। টার্গেট করতে হবে হিমালয়সমান। যাতে সমীহ করে প্রতিপক্ষরা। ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু আট জাতির চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কতটুকু? টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান এবং দুই সাবেক চ্যাম্পিয়ন ভারত ও নিউজিল্যান্ডকে টপকে পারবে কি সেমিফাইনাল, ফাইনাল খেলতে? পরিসংখ্যানেও এগিয়ে দল তিনটি। প্রতিপক্ষ দলগুলোর নাম জেনেও আকাশছোঁয়া স্বপ্নের কথা বলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। গতকাল মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে দলের অফিশিয়াল ফটোসেশন করেন ক্রিকেটাররা। এরপর মিডিয়ার মুখোমুখিতে টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানান, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জয়ের টার্গেটেই খেলবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যেই যাচ্ছি। টুর্নামেন্টে যে আটটা দল আছে, সবাই ডিজার্ভ করে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আটটা কোয়ালিফাইড টিম।’ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ খেলছে ২০০০ সাল থেকে। টুর্নামেন্ট শুরু ১৯৯৮ সালে। টাইগাররা এবার খেলবে ষষ্ঠবারের মতো। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সর্বশেষ আসর বসেছিল ২০১৭ সালে। ওই আসরের সেমিফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে আগামীকাল মধ্যরাত ১টায় ঢাকা ছাড়বেন নাজমুলরা। টাইগাররা ঢাকা থেকে দুবাই যাবে। মূল আসরে নামার আগে মরুশহরে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেন নাজমুলরা। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান ‘এ’ দল। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এরপর দুদিন অনুশীলন করবে টাইগাররা। ২০ জুলাই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মিশন শুরু হবে বাংলাদেশের। এরপর নাজমুলরা উড়ে যাবেন পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি। সেখানে ২৪ জুলাই নিউজিল্যান্ড এবং ২৭ জুলাই পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলবে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শিরোপা জিতেছে দল তিনটি। এ ছাড়া রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তান। শক্তিধর প্রতিপক্ষ থাকার পরও টাইগার অধিনায়কের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন কি একটু বেশিই? অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রিকি পন্টিং স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘যখন আপনি বাংলাদেশকে বাকি দলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাকি দলগুলোর চেয়ে তাদের গুণগত মানে কিছুটা ঘাটতি আছে। সত্যি বলতে আমি মনে করি, তারা ধুঁকতে যাচ্ছে। আমি মনে করি না তাদের সেই মান আছে।’
প্রতিপক্ষ পরাক্রমশালী তিন দল। তাদের বিপক্ষে দল বাড়তি কোনো চাপে থাকবে না বলেই বিশ্বাস টাইগার অধিনায়কের। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আমাদের দলের ভালো করার সক্ষমতা আছে। আমার মনে হয় না কেউ বাড়তি চাপ অনুভব করে।’ রিকি পন্টিং কী বললেন, সে নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই টাইগার অধিনায়কের। নাজমুলের মতো আত্মবিশ্বাসী কোচ ফিল সিমন্সও। ক্যারিবিয়ান কোচও বিশ্বাস করেন, ‘খেলার দিনে নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলে শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা থাকবে।’ টাইগার অধিনায়ক জানান, সতীর্থরা সবাই মরিয়া নিজেদের টার্গেটে পৌঁছাতে। তিনি বলেন, ‘আমাদের রিজিকে আল্লাহ কী লিখে রেখেছেন, আমরা জানি না। আমার কাছে মনে হয়, পরিশ্রম করছি। সততার সঙ্গে কাজ করছি। প্রতিটা খেলোয়াড় বিশ্বাস করে আমরা আমাদের টার্গেটে পৌঁছাতে পারব।’ সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলেছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। মাশরাফি পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ এবং খেলার বাইরে। সাকিব খেললেও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের জন্য জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন। তামিম কিছুদিন আগে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন। মুশফিক টেস্ট ও ওয়ানডে খেলছেন। মাহমুদুল্লাহ খেলছেন ওয়ানডে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্কোয়াডে রয়েছেন মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ। দুই সিনিয়রের সঙ্গে তামিম, সাকিবেরও খেলার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তামিমের অবসর এবং রাজনৈতিক কারণে জায়গা পাননি সাকিব। টাইগার অধিনায়ক নাজমুল গতকাল স্বীকার করেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সাকিবকে মিস করবেন। তিনি বলেন, ‘সাকিব ভাইকে অবশ্যই মিস করব। এ প্রশ্ন কেন করলেন, আমি জানি না। অনেকবার এই উত্তর পেয়েছেন, খেলোয়াড়রা দিয়েছে। আমার মনে হয়, একটা টুর্নামেন্টে যাওয়ার আগে এই প্রসঙ্গে কথা বলাটা যৌক্তিক হবে।’ দলের প্রস্তুতি নিয়ে টাইগার অধিনায়ক বলেন, ‘ফরম্যাটের দিক থেকে একটু ভিন্নতা থাকেই।