‘এখানে কোনো সাকিবিয়ান, তামিমিয়ান বা মাশরাফিয়ান নেই। শুধু একটাই সমর্থনের বিষয় আছে, বাংলাদেশ।’ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ক্রিকেটপ্রেমীদের আকুতিভরা অনুরোধ করেন ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ব্যক্তির ঊর্ধ্বে দেশ। ব্যক্তির প্রতি ভালোবাসা থাকতেই পারে। ব্যক্তি ক্রিকেটারকে ভালোবাসলেও সব ভালোবাসা যেন বাংলাদেশের ক্রিকেট কেন্দ্রিক হয়। বরিশালকে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতাতে ২৯ বলে ৯ চার ও এক ছক্কায় ৫৪ রানের ইনিংস খেলা তামিম বলেন, ‘ভক্ত, সমর্থকরা দুর্দান্ত। তাদের আমি ধন্যবাদ দিতে চাই। তাদের উদ্দেশে বাংলায় কিছু বলতে চাই, ‘সাকিবিয়ান, তামিমিয়ান, মাশরাফিয়ান জিনিসগুলো বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ধ্বংস করেছে। তাই দয়া করে এসব বন্ধ করুন। আপনারা আমার, সাকিবের অথবা মাশরাফির সমর্থক হতে পারেন। কিন্তু আমরা যখন খেলি, বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবেই খেলি। এসব জিনিস তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করবে। আমার পক্ষ থেকে এটিই শেষ বার্তা। আমরা সবাই বাংলাদেশি। আর কিছু নই। তাই দয়া করে দলকে সমর্থন করুন। এখানে ব্যক্তিবিশেষ কিছু নেই। সবাই বাংলাদেশকে সমর্থন করুন।’
গতকালের দিনটি ছিল ফরচুন বরিশাল ও তামিম ইকবালের। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের পর তৃতীয় দল হিসেবে বিপিএলে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিতেছে বরিশাল। মাশরাফি বিন মর্তুজা ও ইমরুল কায়েশের পর তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিতেছেন তামিম। মাশরাফির ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স টানা শিরোপা জিতেছিল ২০১২ ও ২০১৩ সালে। ইমরুল কায়েসের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স শিরোপা জিতেছিল ২০২২ ও ২০২৩ সালে।
ইতিহাস লেখা তামিম বিপিএলের গত আসরের ফাইনালে ৩৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। যদিও ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন কাইলি মায়ার্স ৪৮ রান ও এক উইকেট নিয়ে। গতকালের ফাইনালেও দুজনই পাল্লা দিয়ে পারফরম্যান্স করেছেন। দুজনই ছিলেন ফাইনাল সেরার লড়াইয়ে সবার ওপরে। তামিম ৫৪ রান করেন। মায়ার্স ৪৬ রান করেন ২৮ বলে এবং একটি উইকেটও নেন। শেষ পর্যন্ত সেরা হন তামিম দলকে উড়ন্ত সূচনা দিয়ে। ফাইনালসেরা হয়ে ৫ লাখ পুরস্কার জিতেন তামিম। ৩৫৫ রান ও ১৩ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্ট সেরা হন মেহেদি হাসান মিরাজ। ৫১১ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মোহাম্মদ নাঈম শেখ এবং ২৫ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক হন তাসকিন আহমেদ।
তামিম ইকবাল বাংলাদেশের সেরা ওপেনার এবং অন্যতম সেরা ব্যাটার। ২০০৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্যারিয়ারে তামিম নেতৃত্ব দিয়েছেন টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-২০ ক্রিকেটে। অনেক দিন ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন সাবেক অধিনায়ক। টাইগার টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্কোয়াডে চেয়েছিলেন। তার আগে গত ১০ জানুয়ারি সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান বাঁ-হাতি ওপেনার। ফাইনাল শেষে গতকাল বিসিবির পক্ষ থেকে তামিমকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানো হয়। একটি ক্রেস্ট ও টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-২০ টিম জার্সি বাঁধানো একটি ফ্রেম উপহার দেয়।
এলিমিনেটর ও দুটি কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রান হচ্ছিল না। বল থেমে আসছিল। বল ঘুরছিল। নিচুও হচ্ছিল। প্লে অফের ম্যাচগুলো ছিল টি-২০ ম্যাচের স্বভাববিরুদ্ধ। ব্যাটারদের স্ট্রোক খেলতে সমস্যা হচ্ছিল। ফাইনালের আগের দিন উইকেট নিয়ে অনেক কথা বলেন তামিম। গ্রাউন্ডসম্যানদের ধন্যবাদ জানান। ফাইনালের উইকেট ছিল রান উর্বর। প্রথম ইনিংসে খুলনা টাইগার ১৫ চার ও ১০ ছক্কায় রান করেছিল ৩ উইকেটে ১৯৪। হাফ সেঞ্চুরির ইনিংস খেলেন খুলনার দুই ওপেনার খাজা নাফে ও পারভেজ হোসেন ইমন। দুজনে উদ্বোধনী জুটিতে ১২১ রান যোগ করেন ১২.৪ ওভারে। নাফে ৬৬ রানের ইনিংস খেলেন ৪৪ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায়। পারভেজ ইমন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে ৭৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। ৪৯ বলের ইনিংসটিতে ছিল ৬টি চার ও ২টি ছক্কা। শেষ দিকে গ্রাহাম ক্লার্ক ২৩ বলে ৪৪ রান করেন ২ চার ও ৩ ছক্কায়। পারভেজ ও নাফের ১২১ রান বিপিএলের চলতি আসরে ১৫ নম্বর শতরানের জুটি। সদ্য সমাপ্ত আসরে উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড লিটন দাস ও তানজিদ হাসান তামিমের, দুর্বার রাজশাহীর বিপক্ষে ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে ২৪১ রান, ১৯.৪ ওভারে। ১৯৫ রানের টার্গেট ১৯.৩ ওভারে টপকে যায় ফরচুন বরিশাল ১৮ চার ও ৬ ছক্কায়।