সরল দোলকের পে-ুলামের মতো দুলেছে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের ম্যাচটি। কখনো হেলেছে চিটাগং কিংসের দিকে। কখনো বা খুলনা টাইগার্সের দিকে। শেষ ওভারে চিটাগংয়ের জয়ের জন্য রকার ছিল ১৫ রান। খুলনার দরকার ৩ উইকেট। ক্যারিবিয়ান পেসার জেসন হোল্ডার থাকার পরও এমন সমীকরণের শেষ ওভারটি করেন খুলনার পেসার মুশফিক হাসান। মুশফিকের ওভারের প্রথম বলে মিড উইকেটে বাউন্ডারি মারেন আরাফাত সানি। ফাইনাল খেলতে দরকার ৫ বলে ১১ রান। পঞ্চম বলে নেন ২ রান। ৪ বলে ৯ রান। রোমাঞ্চ ছড়িয়ে পড়ে পুরো মাঠে। চতুর্থ বলে এক রান। তিন বলে ৮ রান। দ্রুত রান নিতে গিয়ে মাসল পুল হয় অ্যালিস ইসলামের। মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান অ্যালিস। উইকেটে আসেন শরিফুল ইসলাম। এসেই মুখোমুখির বলে ফাইন লেগ দিয়ে চার। জয়ের সমীকরণ তখন দুই বলে ৪ রান। উত্তেজনায় দাঁড়িয়ে পড়েন দর্শক। পঞ্চম বলে শর্ট পয়েন্টে হোল্ডারের তালুবন্দি হন শরিফুল। ম্যাচের ফলাফল গড়ায় শেষ বলে। এক বলে ৪ রান। মাঠের বাইরে থেকে ব্যাটিংয়ে আসেন অ্যালিস। এসেই এক্সট্রা কাভার দিয়ে বাউন্ডারি মারেন অ্যালিস। অবিশ্বাস্য ওই চারে ২ উইকেটে ম্যাচ জিতে বিপিএলের ১১তম আসরে ফাইনাল নিশ্চিত করে চিটাগং কিংস। তীরে এসে তরী ডুবে যাওয়ায় হতাশায় ডুবে পড়েন খুলনার কোচ তালহা জুবায়েরসহ ক্রিকেটাররা। রোমাঞ্চকর ম্যাচটি শেষ বলে ২ উইকেটে জিতে ৭ ফেব্রুয়ারি ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে ফাইনাল খেলবে চিটাগং কিংস।
নাঈম রেকর্ড গড়তে না পারলেও টর্নেডো গতিতে ব্যাটিং করেন খুলনার ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার শিমরন হেটমায়ার। ১৯০.৯০ স্ট্রাইক রেটে ৩৩ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৩ রান করেন ক্যারিবিয়ান পিঞ্চ হিটার। ফাইনালে ফরচুন বরিশালের প্রতিপক্ষ হওয়ার ম্যাচে হেটমায়ারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৩ রান করে খুলনা টাইগার্স। দলটি শেষ ৫ ওভারে সংগ্রহ করে অবিশ্বাস্য ৭১ রান। যেখানে ছক্কা ও চার ছিল ৬টি করে। গতকাল বিপিএলে তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে পাঁচ শর ওপর রান করেন নাঈম। ১৪ ম্যাচে ১৪৭.৬৭ স্ট্রাইক রেটে এক সেঞ্চুরি ও ৩ হাফ সেঞ্চুরিতে তার রান ৫০৮। ফাইনাল খেলতে মড়িয়া খুলনা উড়িয়ে আনে হেটমায়ার ও জেসন হোল্ডারকে। দুজনেই দুবাইয়ে আইএল টি-২০ খেলেছেন। এলিমিনেটর ম্যাচে রংপুরের বিপক্ষে একাদশে ছিলেন দুজন। ব্যাটিং করতে হয়নি। হেটমায়ার যখন ব্যাটিংয়ে আসেন, তখন স্কোরবোর্ডে চিটাগংয়ের প্রভাব স্পষ্ট। ৮.৫ ওভারে দলীয় ৪২ রানে আফিফ ধ্রুবর বিদায়ের পর ব্যাটিংয়ে নামেন হেটমায়ার। এর পর একাই টেনে নেন দলকে। খেলেন ১৯০.৯০ স্ট্রাইক রেটের ইনিংস। হেটমায়ার হাফ সেঞ্চুরি করেন ২৯ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায়। শেষ ১৩ রান করেন মাত্র ৪ বলে। ৩৩ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলে ক্যারিবিয়ান হেটমায়ার সাজঘরে ফেরেন ১৯তম ওভারের শেষ বলে।
এর পর জেসন হোল্ডার ও মোহাম্ম নওয়াজ ৬ বলে ১৭ রান করেন। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও ৩২ বলে ৪১ রানের ইনিংস খেলেন এক চার ও ৩ ছক্কায়।