কী ঘটতে যাচ্ছে নারী ফুটবলে? শৃঙ্খলা ভাঙার অভিযোগে বাফুফে কি ফুটবলারদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাবে। নাকি সমঝোতা করে সব উত্তেজনার অবসান ঘটাবে। বাংলাদেশের ফুটবলে অনেক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটলেও সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন নারীরা। তাও আবার জাতীয় দলের সিনিয়র ফুটবলাররা। দেশজুড়েই যাদের পরিচয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ। স্বাভাবিকভাবে অনুশীলনে খেলোয়াড়দের ডাকা হলো। কিন্তু সেখানে অনুপস্থিত সিনিয়র ফুটবলাররা। তারা চোখের পানি ফেলে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘প্রয়োজনে গণ অবসরে যাব। তবু পিটার বাটলারকে কোচ হিসেবে মেনে নেব না।’ তারা চিঠির মাধ্যমে বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়ালকেও বিষয়টি জানান। এ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্রীড়াঙ্গন। স্বাভাবিকভাবে নারী ফুটবলারদের প্রতি দেশের ক্রীড়ামোদিদের আলাদা টান আছে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা টানা দুবার সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের সুনাম বাড়িয়েছেন। বয়সভিত্তিক আসরে তো শিরোপা জেতাটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
সাবিনা খাতুনরা কোচকে বর্জন করলেও ক্রীড়াপ্রেমীরা তাদের পক্ষ নেন। কেউ কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্টাটাস দিচ্ছেন কোচ বদমায়েশ। ও মেয়েদের সঙ্গে এমন কোনো আচরণ করেছেন তাতে বাধ্য হয়েছেন এমন পথ বেছে নিতে। কেউ কেউ আবার পিটার বাটলারের আগাম শাস্তি দাবি করেন।
মেয়েদের ব্যাপারটি স্পর্শকাতর বলে সভাপতি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সাত সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করেন। যার নেতৃত্বে রয়েছেন বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি ইমরুল হাসান। কমিটি বিদ্রোহী মেয়েদের আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করায় আসল ঘটনা নাকি বের হয়ে আসছে। নারী ফুটবলারদের কথাতেই প্রমাণ মিলেছে কোচ বাটলার এমন কিছু করেননি যে, গণ অবসরের হুমকি দিয়ে তাকে বর্জন করতে হবে। ঘটনাটা তাহলে কী? বিশেষ কমিটি এ নিয়ে তেমন মুখও খুলছে না। কমিটি আগামীকালের মধ্যে তা বাফুফেতে রিপোর্ট জমা দেবে ঘটনার আসল রহস্য কী? জানা গেছে, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে কোচ বাটলারের খেলোয়াড় পরিবর্তন ও পজিশন চেঞ্জ মনঃপুত না হওয়ায় আসর চলাকালেই বাটলারের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। যার রেশ ধরেই এত বড় ঘটনা। মূলত ৬ বা ৭ ফুটবলারই এমন ঘটনার সূত্রপাত ঘটান। বাকিরা তাদের ডাকে আসতে বাধ্য হন। খেলোয়াড়দের জবাবদিহিতায় এসব নাকি বের হয়ে এসেছে।
জানা গেছে, আগামীকাল কমিটি যদি রিপোর্ট জমা নাও দেয় এখানে কোচ বাটলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার সম্ভাবনা নেই। তাহলে কি যারা এ অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন বা শাস্তির প্রস্তাব থাকবে রিপোর্টে। নাকি আলাপ-আলোচনা করে সমস্যা মিটিয়ে ফেলা হবে। সাবিনারা কিন্তু বলেই রেখেছেন যাই ঘটুক বাটলার থাকলে তারা নেই। গণ অবসরে যাবেন। এদিকে আবার কোচও নাকি নির্দিষ্ট করে সাত ফুটবলারের নাম উল্লেখ করে বলেছেন, যারা ডিসিপ্লিন মানে না তারা থাকলে আমি থাকব না। বিষয়টি তো বাফুফের নির্বাহী কমিটিতে নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তখন কী করবে বাফুফে? সত্তর ও আশির দশকে ফুটবলে জনপ্রিয়তা যখন তুঙ্গে তখন সালাউদ্দিন-চুন্নুদের মতো তারকারা ডিসিপ্লিন ভাঙার দায়ে শাস্তি পেয়েছিলেন। নারীদের বেলায় তো জিম্মি করার মতো ঘটনা। এখন অ্যাকশন না সমঝোতা সেটাই দেখার বিষয়।