বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল। টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিততে বরিশাল দলভুক্ত করেছে নিউজিল্যান্ডের পেসার অ্যাডাম মিলনেকে। টানা দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলতে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম কোয়ালিফাইয়ারে তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, তাওহিদ হৃদয়, ফাহিম আশরাফ, মোহাম্মদ নবীরা মুখোমুখি হবেন চিটাগং কিংসের। কোয়ালিফায়ারে খেলতে শেষ ম্যাচে বরিশালকে হারাতেই হতো মোহাম্মদ মিঠুন, পারভেজ হোসেন ইমন, উসমান খান, গ্রাহাম ক্লার্ক, সৈয়দ খালেদ, অ্যালিস ইসলামদের। জিততেই হবে, এমন সমীকরণের ম্যাচটি চিটাগং ২৪ রানে জিতে কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করে। এজন্য অবশ্য রানরেটের সহায়তা পেয়েছে চিটাগং। বরিশালকে হারানোর পর চিটাগং ও রংপুর রাইডার্সের পয়েন্ট হয় ১২ ম্যাচে ৮ জয়ে সমান ১৬। তখন বিবেচনায় আসে রানরেট। রানরেটে এগিয়ে কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করে চিটাগং। বরিশাল-চিটাগং ম্যাচের ফলাফল নিয়ে নানান মন্তব্য করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। অনেকেই বলাবলি করছেন, কোয়ালিফায়ারে নুরুল হাসান সোহানের রংপুর রাইডার্সকে এড়াতেই ফরচুন বরিশাল ম্যাচটি হেরেছে। যদিও টেকনিক্যাল কারণে সারা বিশ্বেই এমনটা হয়ে থাকে। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে এড়াতেই চায় দলগুলো।
লিগ পর্বে যে দুটি ম্যাচ হেরেছেন তামিমরা, প্রতিপক্ষ ছিল রংপুর রাইডার্স। রংপুর ম্যাচ দুটি জিতেছিল যথাক্রমে ৩ ও ৮ উইকেটে। এমন শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে চাইবে না কোনো দল, এটাই স্বাভাবিক। বরিশাল ও চিটাগং ম্যাচের জয়ী দল সরাসরি ৭ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল খেলবে। বাইলজ অনুযায়ী পরাজিত দলেরও ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা থাকছে। ৫ ফেব্রুয়ারি পরাজিত দলটি দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার খেলবে এলিমিনেটর ম্যাচে রংপুর রাইডার্স-খুলনা টাইগার্স জয়ী দলের বিপক্ষে।
আজকের ফাইনালে ওঠার ম্যাচের আগে অনুশীলন করেছে তামিম বাহিনী। চিটাগং অনুশীলন করেছে। পরশু সন্ধ্যায় বরিশাল ও চিটাগং ম্যাচটি ছিল হাই-স্কোরিং। চিটাগংয়ের ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২০৬ রানের জবাবে বরিশাল করেছিল ৯ উইকেটে ১৮২ রান। চট্টগ্রাম পর্বে চিটাগংয়ের ৮ উইকেটে ১২১ রান বরিশাল জিতেছিল ৬ উইকেটে। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ফাইনাল নির্ভর করছে মালান (২৮১ রান), তামিম (৩৩০ রান), হৃদয় (১৯৮ রান), মাহমুদুল্লাহদের (১৯৯ রান) ব্যাটিংয়ের ওপর। অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফও পিছিয়ে নেই। বোলিংয়ে ২০ উইকেটের পাশাপাশি রান করেন ১০২। এ ছাড়া বাঁ-হাতি স্পিনার তানভির ইসলাম নিয়েছেন ১০ উইকেট। চিটাগংয়ের ব্যাটিং ভরসা উসমান খান (২৮৫ রান), গ্রাহাম ক্লার্ক (৩৭৭ রান), মোহাম্মদ মিঠুন (২৬০ রান), শামীম পাটোয়ারি (২৬৬ রান) ও পারভেজ ইমন (২২০ রান)। বোলিংয়ের ভরসা খালেদ ১১ ম্যাচে ১৮ উইকেট, অ্যালিস ১৪ উইকেট, শরিফুল ১২ উইকেট।