বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের অচলাবস্থা নিরসনে সাত ফুটবলারের সঙ্গে বসেছিল বিশেষ তদন্ত কমিটি। বাকিদের সঙ্গে আজ কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে তদন্ত কমিটি। কেননা, একদিকে গতকালও প্রধান কোচ পিটার বাটলার ১৫ ফুটবলারকে নিয়ে অনুশীলন করেছেন। অন্যদিকে সাফজয়ী ফুটবলারদের ১৮ জন তাদের বয়কট সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। নারী ফুটবলের এমন অচলাবস্থা নিরসনে ৭ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বাফুফে সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরুল হাসানের নেতৃত্বে গতকাল পূর্বনির্ধারিত তদন্ত কমিটির কাজও শুরু করেছে তারা।
প্রথম দিনে ৭ নারী ফুটবলার তদন্ত কমিটির সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। তারা হলেন, অধিনায়ক সাবিনা খাতুন, শিউলি আজিম, সাথী বিশ্বাস, মনিকা চাকমা, নাসরিন আক্তার, সুমাইয়া ও সাগরিকা। গতকাল বাফুফে ভবনে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তদন্ত কমিটির সামনে ছিলেন টানা দুবারের সাফজয়ী এই সাত ফুটবলার। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় বাফুফে ভবনে আসেন বিশেষ তদন্ত কমিটির প্রধান ও বাফুফে সিনিয়র সহসভাপতি ইমরুল হাসান। পরে সাত জনের সঙ্গে কথা বলে এই কমিটি। বাকিদের সঙ্গে আজ আবার বসা হবে জানিয়ে ইমরুল বলেছেন, ‘কথা বলার জন্য আমরা ১৮ জনকে চিঠি দিয়েছিলাম।’
প্রথম দিনের তদন্ত শেষে বিশেষ এ তদন্ত কমিটির প্রধান ইমরুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ (গতকাল) আমরা সাতজনের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি। কাল (আজ) বাকিদের সঙ্গে কথা বলব। প্রয়োজনে অন্যদের সঙ্গেও কথা বলব। আমরা আশাবাদী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে পারব। আমরা যে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তার ওপর শুধু কাজ করছি। কেন এমন অবস্থা হলো, তা উদঘাটনে আমরা কাজ শুরু করেছি।’ শুধু কি ফুটবলারদের সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে নাকি কোচিং স্টাফদেরও ডাকা হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে ইমরুল বলেন, ‘যদি প্রয়োজন হয় তাহলে বাকিদের সঙ্গেও আমরা কথা বলব।’ আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশের আশা তদন্ত কমিটির। উল্লেখ্য, কোচ ও খেলোয়াড়দের এই দ্বন্দ্বের শুরু গত অক্টোবরে নেপালে সাফ চলাকালে। সিনিয়র কয়েকজনকে কোচ বাটলার পছন্দ করেন না বলে দাবি সাবিনাদের। তাই বাটলারকে পুনরায় নিয়োগ দিলে একযোগে ১৮ ফুটবলার এসে এই কোচের অধীনে অনুশীলন বয়কটের সঙ্গে অবসরের হুমকিও দেন। এরপরই তদন্ত কমিটি গঠন করে বাফুফে।