এক-দুটি দলের জন্য বিপিএল এখন বিসিবির গলার কাঁটা! যদিও দুর্নাম ঘুচাতে ক্রিকেট বোর্ড মড়িয়া। ক্রিকেটারদের আশ্বাস দিয়েছে পারিশ্রমিক প্রাপ্তির। তারপরও ক্রিকেটাররা স্বস্থিতে নেই। মাঠে খেলছেন ঠিকই, কিন্তু অপেক্ষায়ও থাকছেন চুক্তি অনুযায়ী পারিশ্রমিক প্রাপ্তির। বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব নাজমুল আবেদীন ফাহিম অবশ্য ক্রিকেটারদের আশ্বস্ত করেছেন। জানিয়েছেন, যেসব ফ্র্যাঞ্চাইজি অর্থ পরিশোধ করতে গাফিলতি করছে, তাদের বিশেষ নজরদারিতে রেখেছে বিসিবি। আসরের শুরু থেকে এবার অর্থকড়ি নিয়ে গড়িমশি করছে দুর্বার রাজশাহী ও চিটাগং কিংস। পারিশ্রমিক পরিশোধের বিষয়ে রংপুর রাইডার্স, ফরচুন বরিশাল কিংবা খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে কোনো অভিযোগ নেই। তারপরও খুলনার অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ চিন্তিত ক্রিকেটারদের অর্থপ্রাপ্তির অনিশ্চয়তার খবরে। বিপিএলের এই অভিযোগ বিসিবিকে বদনামের ভাগীদার করছে। দেশের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার মিরাজ মনে করেন, এসব সমস্যা ও দুর্নাম সামলাতে না পারলে বিশ্বব্যাপী বদনামের ভাগীদার হবে ক্রিকেট বোর্ড। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের পাশে থাকার জন্য ক্রিকেট বোর্ডকে অনুরোধ করেছেন খুলনার অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ, ‘আমার মনে হয়, প্রত্যেকটি মানুষেরই সাপোর্ট করা উচিত। নতুন একটা পরিবেশ এলে একটু কঠিন হয়। এবার একটু ভিন্ন হচ্ছে। প্রত্যেকটি মানুষের পাশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। যে সমস্যাগুলো হচ্ছে, ক্রিকেট বোর্ডে যারা আছেন, যারা দায়িত্বে আছেন, আশা করি এটা সুন্দরভাবে সামলাবেন।’
দেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি অর্থ বিপিএলে। অথচ বিপিএলেই অর্থ না পাওয়ার বহু ইতিহাস রয়েছে। এই অর্থ না পাওয়ার বিষয় কোনোভাবেই মানতে পারছেন না মিরাজ। মিডিয়ার মুখোমুখিতে স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, টাকার জন্যই তারা ক্রিকেট খেলেন, ‘অর্থ না পাওয়া অবশ্যই খারাপ লাগছে। দিনশেষে আমরা খেলোয়াড়রা ক্রিকেট খেলি তো টাকার জন্য। পারিশ্রমিক যদি না পাই, প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য এটা খারাপ। বিসিবি আমাদের অভিভাবক, আশা করি তারা এটা নিয়ে কথা বলবেন। আমাদের দায়িত্ব নিয়ে কথা বলবেন সবার সঙ্গে। কোনো সমস্যা হলে ক্রিকেট বোর্ড হয়তো সমাধান দেবে।’
চুক্তি অনুযায়ী দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের ৭৫ শতাংশ পেয়ে যাওয়ার কথা। হাতেগোনা দুই-তিনটি দল হয়তো চুক্তির শর্ত মানেনি। বিশেষ করে দুর্বার রাজশাহীর বিদেশি ক্রিকেটাররা অর্থ না পাওয়ায় একটি ম্যাচ বয়কট করেন। এরপর অবশ্য খেলেছেন। তাদের বয়কটের এই সিদ্ধান্ত বিসিবিকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। আরেকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্ণধার জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের অর্থ না দেওয়ার বিষয়ে অদ্ভুত যুক্তি দেখান। এসব কোনোভাবেই মেনে নিচ্ছে না বিসিবি। শুধু অর্থকড়ি নয়, টিকিট নিয়েও শুরু থেকে ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছে। টিকিট না পেয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা গেট ভাঙচুর করেন। যদিও বর্তমানে টিকিট পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তারপরও বিপিএল নিয়ে মেহেদি মিরাজ চিন্তিত, ‘দিনশেষে, আমাদের সবারই কিন্তু বদনাম হবে। আমরা যদি ঠিকঠাকভাবে এই জিনিসগুলো সামলাতে না পারি, ঠিকভাবে যদি কাজে লাগাতে না পারি, তাহলে দিনশেষে আমাদের ক্রিকেটের বদনাম হবে।’
আমাদের সবারই বদনাম হবে। আমাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব এটা, বাংলাদেশ ক্রিকেটের যেন বদনাম না হয়। আমরা যেভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রিকেট খেলছি, আমরা ভালো করলে সবাই বাহবা দেয়। আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব সেটা বজায় রাখা।’
১০ ম্যাচে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে অবস্থান করছে খুলনা টাইগার্স। দলটি চুক্তির নিয়ম মেনে এখন পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করেনি। এতে খুব একটা চিন্তিত নয় খুলনার ক্রিকেটাররা। দলটির ম্যানেজমেন্ট আশ্বাস দিয়েছে সহসাই অর্থ পরিশোধের। মিডিয়া মুখোমুখিতে সে কথাই বলেন মিরাজ, ‘আমাদের দল এর মধ্যেই ৪০ শতাংশ পেমেন্ট করে দিয়েছে। ইকবাল ভাইয়ের (দলের কর্ণধার) সঙ্গে কথা হয়েছে আমার। তিনি বলেছেন, এই সপ্তাহের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ দিয়ে দেবেন। প্রায় ৭০ শতাংশ আমরা পেয়ে যাব।’