পেশাদার লিগ ও ফেডারেশন কাপ চলমান। তবে বসুন্ধরা কিংস চোখ ফেলে রেখেছে ট্রেবল শিরোপাতেই। স্বাধীনতার পর ঘরোয়া ফুটবলে ট্রেবল অর্থাৎ এক মৌসুমে তিন শিরোপা জিতেছে তিন ক্লাব। ঢাকা মোহামেডান, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ও বসুন্ধরা কিংসের এ কৃতিত্ব রয়েছে। এবার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে কিংসই বাংলাদেশের ফুটবলে টানা দুবার ট্রেবল জিতবে। গতবার লিগ ছাড়াও স্বাধীনতা ও ফেডারেশন কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। এবার ফুটবলের নতুন আসর চ্যালেঞ্জ কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে মৌসুম শুরু করেছে কিংস। নতুন নিয়মের ফেডারেশন কাপে গতকাল ওয়ান্ডারার্সকে হারিয়ে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে। প্রতিপক্ষ ঠিক না হলেও প্লে-অফে জিতলেই ফাইনালে জায়গা করে নেবে। বাকি দুই ম্যাচে কিংস কী করবে তা বলা যায় না। তবে শক্তির বিচারে মিগেলদেরই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
চ্যালেঞ্জ কাপের পর ফেডারেশন কাপেও না হয়
কিংস চ্যাম্পিয়ন হলো, ট্রেবল জিততে তো লিগ শিরোপাও দরকার। মোহামেডানের চেয়ে ৭ ও ঢাকা আবাহনীর চেয়ে তারা ৩ পয়েন্টে পিছিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপ পেশাদার লিগে ৩-এ অবস্থান করছে। প্রথম লেগে যথাক্রমে শীর্ষ তিন দলের পয়েন্ট যথাক্রমে ২৪, ২০ ও ১৭। তবুও বসুন্ধরা কিংসের অধিনায়ক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার মিগেল ফিগেইরা আত্মবিশ্বাসী সুরে বলেছেন, ‘আমাদের চোখ ট্রেবলেই। ৩ পয়েন্টের লিগে ৭ বা ৩ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকাটা বড় কোনো সমস্যা নয়। দ্বিতীয় লেগের নয় ম্যাচ বাকি আছে। আমরা আমাদের ছন্দে ফিরতে শুরু করেছি। আশা করি দ্বিতীয় লেগে চেনা কিংসের দেখা মিলবে।’ মিগেলের যুক্তির যৌক্তিকতা রয়েছে। তবে এও ঠিক, কিংস যদি দ্বিতীয় লেগে মোহামেডান ও আবাহনীকে হারাতে পারে তার পরও তো দুই দলের অন্যদের কাছে পয়েন্ট হারানোর ওপর নির্ভর করছে কিংসের এগিয়ে যাওয়া। স্থানীয়রা সুবিধা করতে না পারলেও তারাও এখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তারপর আবার ভালোমানের দুই বিদেশি আনলে কিংস যে ভয়ংকর রূপ ধারণ করবে এ নিয়ে সন্দেহ নেই। যাক, কিংস ট্রেবল জিতবে কি না তা সময়ই বলে দেবে। ফেডারেশন কাপের শেষ ম্যাচে গতকাল তারা ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে ৫-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। লিগের শেষ ম্যাচেও একই প্রতিপক্ষকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। হোক না নিচের সারির দল। টানা দুই ম্যাচে ১০ গোলে জেতাতেই প্রমাণ মেলে কিংস তাদের চেনা রূপে ফিরছে। কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে প্রথমার্ধে কিংস ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। বিজয়ী দলের মো. সোহেল রানা ২, মিগেল ও তপু বর্মণ ১টি করে গোল করেন। বাকি আরেকটি গোল ছিল আত্মঘাতী। এদিকে ময়মনসিংহ রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে পুলিশের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেও গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন।
ফর্টিস এফসির সঙ্গে তাদের ৭ পয়েন্ট হলেও হেড টু হেড অর্থাৎ ফর্টিসকে হারানোয় তারা নকআউট পর্ব খেলবে। অবশ্য গোল পার্থক্যেও এগিয়ে ছিল ফর্টিস। কিংস গ্রুপ ম্যাচে ব্রাদার্স, পুলিশ ও ওয়ান্ডারার্সকে হারালেও ফর্টিসের কাছে ০-২ গোলে হেরে যায়। ৯ পয়েন্ট নিয়ে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন।