ক্রিকেটে এখন সংক্ষিপ্ত সংস্করণ টি-১০। এটা অবশ্য এখনো আইসিসির স্বীকৃতি পায়নি। তবে টি-১০ লিগ অনেক ক্রিকেটপ্রেমীকেই আনন্দ দেয়। টি-২০ ক্রিকেট আইসিসি স্বীকৃতি দিয়েছিল আরও বেশি দর্শক টানার আশায়। সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ব্যাট-বলের লড়াইটা দারুণ হয়। ব্যাটাররা নির্ভার হয়ে ব্যাটিং করেন। বোলারদেরও অনেক কিছু করার সুযোগ থাকে। দর্শকরা ব্যাট-বলের কঠিন লড়াই দেখে জীবনের দুঃখ-দুর্দশা ভুলে আনন্দে মেতে ওঠে। তিন কিংবা সাড়ে তিন ঘণ্টার এই লড়াই অনেকটাই ফুটবলের উন্মাদনা এনে দেয়। প্রতি বলেই চার কিংবা ছক্কা হওয়ার আশা করেন দর্শকরা। প্রায়ই তাদের আশা পূরণ হয়। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলমান আসরে একটু বেশিই পূরণ হচ্ছে দর্শকদের আশা। প্রায় ম্যাচেই ২০০ পার করছে দলগুলো। এমনকি ২০০-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডও হচ্ছে। আরও একটা রেকর্ড হয়েছে এবার। বিপিএলের এক আসরে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ড।
বিপিএলের ষষ্ঠ আসর অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালে। সেবার রংপুর রাইডার্সের রাইলি রুশো (১০০*), এবি ডি ভিলিয়ার্স (১০০*) এবং অ্যালেক্স হেলস (১০০) সেঞ্চুরি করেন। এ ছাড়াও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের তামিম ইকবাল (১৪১*) ও এভিন লুইস (১০৯*) এবং রাজশাহী কিংসের লরি ইভান্স (১০৪*) সেঞ্চুরি করেন। এক আসরে ৬ সেঞ্চুরি আর আগে কখনো দেখেনি বিপিএলের দর্শকরা। ২০১২ সালে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে সেঞ্চুরি হয়েছিল ৪টি। এরপর ২০১৩ সালে ৩টি, ২০১৫ সালে ১টি, ২০১৬ সালে ১টি, ২০১৭ সালে ৩টি, ২০১৯ সালে ৬টি, ২০২০ সালে ৩টি, ২০২২ সালে ৪টি, ২০২৩ সালে ৪টি এবং ২০২৪ সালে ৩টি সেঞ্চুরি দেখেছেন দর্শকরা। চলমান বিপিএলের মাঝ পথেই অতীতের রেকর্ড ভেঙে গেল। ১৯ জানুয়ারি ২৬ নম্বর ম্যাচে দুর্বার রাজশাহীর অধিনায়ক এনামুল হক বিজয় ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে রেকর্ডটা ভেঙেছেন। চলমান আসরে এটা সপ্তম সেঞ্চুরি।
টি-২০ ক্রিকেটে রানের বন্যা দেখতেই পছন্দ করেন দর্শকরা। কাক্সিক্ষত রানের বন্যা এবার দেখেছেন তারা। সেঞ্চুরি করেছেন ঢাকা ক্যাপিটালসের লিটন দাস (১২৫*), চিটাগং কিংসের উসমান খান (১২৩), রংপুর রাইডার্সের অ্যালেক্স হেলস (১১৩*), ঢাকা ক্যাপিটালসের তানজিদ হাসান (১০৮) ও থিসারা পেরেরা (১০৩*), চিটাগং কিংসের গ্রাহাম ক্লার্ক (১০১) এবং দুর্বার রাজশাহীর এনামুল হক বিজয় (১০০*)। এখনো বিপিএলে গতকালের ম্যাচসহ ২০টি ম্যাচ বাকি। এর মধ্যে হয়তো আরও বেশ কয়েকটি সেঞ্চুরি দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকরা।
চলমান বিপিএলে রান এত বেশি হচ্ছে কেন? সিলেটে মাঠ ছিল অনেক ছোট। সেখানে ৩টি সেঞ্চুরি হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি করে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মাঠ তুলনামূলক বড়। তবে মাঠের আকার ছাড়াও আছে উইকেটের ভূমিকা। ঢাকা ও সিলেটে ছিল স্পোর্টিং উইকেট। সেখানে বোলারদের জন্য ছিল চ্যালেঞ্জ। ব্যাটাররা সহজেই রান পাচ্ছিলেন। চট্টগ্রামের উইকেটে গোলকধাঁধা। দিনের প্রথম ম্যাচে একরকম আর দ্বিতীয় ম্যাচে আরেকরকম আচরণ করছে উইকেট। এমনকি প্রথম ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসেই রূপ বদলাচ্ছে। এ কারণে ক্রিকেটাররাও উইকেটটাকে রহস্যে ঘেরা বলছেন। এই উইকেটে বোলারদের জন্য যেমন সুবিধা আছে তেমনি ব্যাটারদের জন্যও। ঢাকায় শেষ পর্বের উইকেটও স্পোর্টিং হওয়ার কথা। এর অর্থই হলো, আরও বেশ কিছু ম্যাচে রানের বন্যা দেখতে যাচ্ছেন দর্শকরা। চার-ছক্কার ফুলঝুরি আর সেঞ্চুরি দেখার অপেক্ষায় থাকবেন তারা।