বিপিএল মানেই চার-ছক্কার ফুলঝুরি। এ যেন ব্যাটে-বলের নয়, ব্যাটে-ব্যাটের লড়াই। চলমান বিপিএলে গত ম্যাচগুলোর দৃশ্য ছিল এমনটাই। ব্যাটারদের দাপটেই ম্যাচ জয় করা যায়। তবে গতকাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। বোলারদের দাপটের একটা ম্যাচ দেখল দর্শক। সেই ম্যাচে চিটাগং কিংসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার ২ নম্বরে স্থান মজবুত করেছেন তামিম ইকবালরা।
সাগরিকা স্টেডিয়ামের উইকেট কখন কোন আচরণ করে বোঝা কঠিন। তামিমের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারও গতকাল দোটানায় পড়েছিলেন। তারপরও টস জিতে দ্বিধা কাটিয়ে বোলিংটাই নিয়ে নেন। পরে প্রমাণ হয়েছে, তামিমের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। উইকেটে অনেক ফাঁদ পাতা ছিল। প্রথম ইনিংসে সেই ফাঁদেই পড়েছেন চিটাগং কিংসের ব্যাটাররা। ২০০ রানের টার্গেটে নেমেছিল দলটা। তবে ১২১ রানেই থেমে যান মিথুনরা। ম্যাচের পর চিটাগং কিংসের অধিনায়ক মিথুন বলেন, ‘উইকেটটা ট্রিকি ছিল। ২০০ রানের ছিল না। ১৫০ রানের ছিল। তা ছাড়া ফরচুন বরিশাল বড় দল। আমাদের টপঅর্ডারে ভালো করা প্রয়োজন ছিল। পাওয়ার প্লেতে অনেক উইকেট হারিয়ে ফেলি।’ পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৩৯ রান করতেই ৫ উইকেট হারায় চিটাগং। এখানেই বাজিমাত করে বরিশাল। দলটার পাকিস্তানি বোলার ফাহিম আশরাফ ৪ ওভারে মাত্র ১২ রানের খরচে নেন ৩ উইকেট। ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন রিপন মন্ডল। এ ছাড়া তানভির ইসলাম নেন ২ উইকেট।
চিটাগং কিংসের ইনিংসে ১৫তম ওভারে বল হাতে তুলে নেন তানভির ইসলাম। উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো মুশফিকুর রহিম বললেন, ‘এই উইকেটটা তোর।’ উইকেটে থাকা মাইক্রোফোনের মাধ্যমে মুশফিকের কথা স্পষ্টই বোঝা গেল। তানভির ওই ওভারের পঞ্চম বলে শিকার করেন চিটাগংয়ের শেষ প্রতিরোধযোদ্ধা মিথুনকে। পরের ৩১ বলে ৩৪ রান সংগ্রহ করে চলমান বিপিএলে সর্বনিম্ন ইনিংসের লজ্জা থেকে দলকে বাঁচান আরাফাত সানি, খালেদ, শরিফুলরা। ১২১ রানে শেষ হয় চিটাগং কিংসের ইনিংস। গতকালের আগে ছয় ম্যাচে চিটাগং কিংসের সর্বনিম্ন সংগ্রহ ছিল ১৩১। তিনটি ইনিংস ছিল ২০০ কিংবা তার চেয়ে বেশি রানের। এ ছাড়াও দুটি ইনিংস ছিল ১৮০ এবং ১৬৬ রানের। এমন দুরন্ত একটা দল গতকাল সর্বনিম্ন রানের লজ্জা থেকে কোনোরকমে বেঁচে যায়। চলমান বিপিএলে সর্বনিম্ন সংগ্রহ দুর্বার রাজশাহীর (১০৫/১০)। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে সিলেটে লজ্জার এই রেকর্ড গড়ে তারা। গতকাল ১২২ রানের টার্গেটে ১৯ বল হাতে রেখে জয় পায় ফরচুন বরিশাল। শুরুতে তামিম, তাওহিদ, মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহর উইকেট হারালেও মোহাম্মদ নবী (২৬*) এবং ডেভিড মালান (৫৬*) দলকে জয়ী করেন। এ জয়ে ফরচুন বরিশাল ৭ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে উঠে। সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে তিনে অবস্থান করছে চিটাগং কিংস। ৮ ম্যাচে পূর্ণ ১৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে রংপুর রাইডার্স।
ম্যাচ শেষে দুই দলের প্লেয়াররা একে-অপরের সঙ্গে হাত মেলান। তারপর তামিম ইকবাল তাঁর দলবল নিয়ে ছুটে যান পূর্ব গ্যালারির দিকে। সেখানে ফরচুন বরিশালের লাল জার্সি গায়ে জড়ানো কয়েক শ সমর্থক ম্যাচজুড়ে দারুণভাবে সমর্থন করে গেছেন তামিমদের। তাদের অভিবাদন জানালেন তামিমরা। তারপর জয়ের তৃপ্তি নিয়ে মাঠ ছাড়লেন।