বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) ক্লাবগুলোর আধিপত্য কমানোর প্রস্তাবনা রয়েছে বিসিবির প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্রে। ক্লাবগুলোর আধিপত্য কমিয়ে জেলা ও বিভাগের প্রভাব বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্রে। বিসিবির এমন সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে ঢাকার ৭৬টি ক্লাবের সংগঠকরা। গতকাল স্থানীয় একটি পাঁচতারা হোটেলে ক্লাব সংগঠকরা নিজেদের মধ্যে বৈঠক শেষে তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে। মিডিয়ার মুখোমুখিতে প্রস্তাবিত সংশোধিত গঠনতন্ত্রের পুনরায় খসড়া তৈরির দাবি জানিয়েছেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের যুগ্ম সম্পাদক আহমেদ এস এম রুবেল। তিনি বলেন, ‘শুক্রবারের মধ্যে প্রস্তাবনা খসড়া পুনরায় তৈরি করতে হবে। শনিবার আমরা বিসিবিতে যাব। এটা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কোনো লিগে অংশগ্রহণ করবে না ক্লাবগুলো। সংশোধনী কমিটির আহ্বায়ক ফাহিমকে পদত্যাগ করতে হবে।’ বিসিবি পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিমের সঙ্গে গঠনতন্ত্র সংশোধনের কমিটির সদস্য সচিব জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম। বাকি তিন সদস্য- বিসিবির লিগ্যাল অ্যাডভাইজার মো. কামরুজ্জামান, ব্যারিস্টার শেখ মাহদি এবং এ কে এম আজাদ হোসেন।
বিসিবির বর্তমান গঠনতন্ত্রের ক্যাটাগরি-২-এ ক্লাব পরিচালকের সংখ্যা ১২ জন। জেলা ও বিভাগের সংগঠকদের নিয়ে ক্যাটাগরি-১-এর পরিচালক সংখ্যা ছিল ১০ জন। ক্যাটাগরি-৩-এর পরিচালক সংখ্যা তিনজন। সব মিলিয়ে পরিচালক সংখ্যা সভাপতি এবং সিনিয়র সহসভাপতি ও সহসভাপতিসহ ২৫ জন। প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্রে পরিচালক সংখ্যা কমিয়ে ২১ করার উল্লেখ রয়েছে। ক্রিকেট বোর্ডে ক্লাবগুলোর কর্তৃত্ব কমিয়ে জেলা ও বিভাগের কর্তৃত্ব বাড়ানোর প্রস্তাবনা রয়েছে। ক্লাব পরিচালকদের সংখ্যা ১২ থেকে কমিয়ে চারজন করার প্রস্তাবনা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ক্লাবগুলোর কাউন্সিলর সংখ্যাও কমানোর প্রস্তাবনা রয়েছে গঠনতন্ত্রের খসড়ায়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিসিবির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘গঠনতন্ত্রে যে জিনিসগুলো করা হয়েছে, আমাদের ক্লাবগুলোকে অপমান করা হয়েছে। ঢাকা লিগের ক্লাবগুলো স্বাধীনতা থেকে এ পর্যন্ত যে অবদান রেখেছে ক্রিকেটের উন্নয়নে এবং খেলোয়াড় সৃষ্টিতে, প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্রে তাদের অপমানিত করা হয়েছে। ১২ জন বোর্ড পরিচালক থেকে চারজনে নিয়ে আসা হয়েছে, ৭৬ কাউন্সিলর থেকে ৩০ জনে নিয়ে আসা হয়েছে। এটা মানার যোগ্য না। আগামী তিন দিনের মধ্যে যদি একটা সিদ্ধান্ত না দেয় এবং সংশোধন না করা পর্যন্ত ক্লাবগুলো খেলা থেকে বিরত থাকবে।’ বিসিবি পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিমের পদত্যাগ দাবি করেন সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘উনি যে কাজটা করেছেন, সবাইকে বিতর্কের মুখে ফেলে দিয়েছেন। আমাদের সংগঠকরা ক্ষোভের মুখে বলতে পারে, যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে ঢাকার ক্লাবগুলো, যদি না চায় তাহলে বোর্ড চালানোর ক্ষমতা কারও নেই।’
ক্লাব পরিচালকের সংখ্যা যেমন কমানো হয়েছে প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্রে, তেমনি ক্যাটাগরি-১-এ ঢাকা বিভাগের পরিচালক সংখ্যা বাড়িয়ে ২ থেকে ৩ করা হয়েছে। একজন করে বাড়ানো হয়েছে রংপুর ও রাজশাহীর পরিচালক সংখ্যা। ইনস্টিটিউশনের পরিচালক সংখ্যা ২ করা হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক সংখ্যা দুজনই রাখা হয়েছে। বিসিবির বর্তমান সভাপতি ফারুক আহমেদ ও নাজমুল হোসেন ফাহিম জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোটায় পরিচালক হয়েছেন।