বিপিএলের চলতি আসরের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হতে পারতেন দুর্বার রাজশাহীর ইয়াসির আলী রাব্বি। দুর্ভাগ্য সঙ্গী হওয়ায় টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ফরচুন বরিশালের বিরুদ্ধে ৯৪ রানে থেমে পড়েন ডান হাতি মিডল অর্ডার ব্যাটার। গতকাল মিরপুরে ইয়াসিরের দল দুর্বার রাজশাহীর বিরুদ্ধে চিটাগং কিংসের পাকিস্তানের ওপেনার উসমান খান তিন অঙ্কের জাদুকরী ইনিংস খেলেন। চলতি আসরে প্রথম সেঞ্চুরি উসমানের। তার সেঞ্চুরির ম্যাচে চিটাগং ১০৫ রানের পাহাড়সমান ব্যবধানে হারিয়েছে রাজশাহীকে। উসমান মাত্র ৬২ বলে ১৩ চার ও ৬ ছক্কায় ১৯৮.৩৮ স্ট্রাইক রেটে ১২৩ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছেন। পাকিস্তানের পক্ষে খেলা উসমান গতকাল চিটাগং কিংসের পক্ষে দুটি রেকর্ড গড়েন বিপিএলে। আসরে কোনো ইনিংসে চার-ছক্কায় সর্বাধিক ৮৮ রান তুলে নেন উসমান। আগের রেকর্ড ছিল নাসির জামশেদের ৫৮ রান। উসমানের সেঞ্চুরির ম্যাচে চলতি আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দলগত স্কোর গড়েছে চিটাগং কিংস ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২১৯ রান। ২২০ রানের টার্গেটে এনামুল হক বিজয়ের দুর্বার রাজশাহী অলআউট হয় ১৭.১ ওভারে ১১৪ রানে। টুর্নামেন্টে চিটাগংয়ের এটা ২ ম্যাচে প্রথম জয় এবং রাজশাহীর ৩ ম্যাচে দ্বিতীয় হার। টানা ৩ জয়ে সবার ওপরে রংপুর রাইডার্স।
বিপিএলে উসমানের এটা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের পক্ষে বিপিএলে প্রথমবার খেলেছিলেন। সেবার আসরে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন উসমান। এক আসর পর ফের সেঞ্চুরি করেন চট্টগ্রামের আরেক ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে। বিপিএলে একাধিক সেঞ্চুরি করা ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান উসমান। আসরে মাত্র ১৩ ইনিংসে ২টি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। ৫ সেঞ্চুরিতে সবার ওপরে ক্যারিবীয় ক্রিকেটার ক্রিস গেইল। একাধিক সেঞ্চুরি করেছেন জনসন চার্লস, আন্দ্রে ফ্লেচার, এভিন লুইস ও তামিম ইকবাল।
টস জিতে রাজশাহীর অধিনায়ক এনামুল ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান চিটাগংকে।
প্রথম ওভারেই চিটাগংয়ের ইনিংসে আঘাত হানেন রাজশাহীর ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদ। দারুণ ছন্দে রয়েছেন ডান হাতি ফাস্ট বোলার। রাজশাহীর হয়ে দারুণ বোলিং করছেন। ৩ ম্যাচে এখন পর্যন্ত উইকেট নিয়েছেন ১২টি। আগের ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ১৯ রানের খরচে নেন ৭ উইকেট। প্রথম ম্যাচে ফরচুন বরিশালের বিরুদ্ধে নেন ৩১ রান দিয়ে ৩ উইকেট। গতকাল ২ উইকেট নেন ২২ রানের খরচে।
১ রানে জাতীয় দলের ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনের বিদায়ের পর জুটি বাঁধেন উসমান ও গ্রাম ক্লার্ক। দুজনে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১২০ রান যোগ করেন ১০.৩ ওভার ও ৬৩ বলে। ক্লার্ক ৪০ রান করেন ২৫ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায়। উসমান সেঞ্চুরি করে ১৪তম ওভারের শেষ বলে। ৮৯ রান থেকে সোহাগ গাজীকে ছক্কা মেরে ৯৫ রানে পৌঁছান উসমান। পরের দুই বলে দুই রান করে পৌঁছে যান ৯৯ রানে। এরপর সিঙ্গেল নিয়ে সেঞ্চুরি করেন উসমান। চিটাগংয়ের ওপেনার উসমান ১০০ রান করেন ৪৮ বলে ১১ চার ও ৫ ছক্কায়। প্রথম ৫০ রান করেন মাত্র ২১ বলে। শেষ ২৩ রান করেন ১৫ বলে। উসমানের সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে ২১৯ রান করে চিটাগং। বিপিএলের ইতিহাসে মিরপুর স্টেডিয়ামে দলগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এটি। আগের রেকর্ড খুলনার, ২১৮। বিপিএলের সর্বোচ্চ দলগত স্কোর রংপুর রাইডার্সের ৪ উইকেটে ২৩৯ রান। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামের মাটিতে স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে এ রান করেছিল রংপুর।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
চিটাগং কিংস
২১৯/৫, ২০ ওভার (পারভেজ হোসেন ইমন ০, উসমান খান ১২৩, গ্রাহাম ক্লার্ক ৪০, মোহাম্মদ মিঠুন ২৮, হায়দার আলী ১৯*। তাসকিন আহমেদ ৪-০-২২-২, সোহাগ গাজী ৩-০-২৮-১, হাসান মুরাদ ৪-০-৪৫-০, মোহর শেখ ২-০-২৯-০, শফিউল ইসলাম ৩-০-৪৬-১, রায়ান বার্ল ৩-০-৩৭-০, সাব্বির রহমান ১-০-১১-০)।
দুর্বার রাজশাহী
১১৪/১০, ১৭.১ ওভার (মোহাম্মদ হারিস ৩২, সাব্বির রহমান ৮, এনামুল বিজয় ৮, ইয়াসির আরাফাত ১৬, আকবর আলী ১৮, রায়ান বার্ল ১০, সোহাগ গাজী ১১। শরিফুল ইসলাম ৩-০-২৫-২, আরাফাত সানি ৪-১-২৩-৩, অ্যালিস ইসলাম ৪-০-১৭-৩, মোহাম্মদ ওয়াসিম ৩.১-০-২৪-২, সৈয়দ খালেদ ৩-০-২৩-০)।
ফল : চিটাগং কিংস ১০৫ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা : উসমান খান।