জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পতিত স্বৈরাচার সরকারের সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমীর হোসেন আমু, তার মেয়ে ও শ্যালিকার বিরুদ্ধে আলাদা তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
তিনি জানান, আমু মন্ত্রী থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করার মাধ্যমে অবৈধভাবে ২৬ কোটি ২৭ লাখ ৮১ হাজার ৪৬১ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনপূর্বক ভোগ দখলে রেখে এবং তার নামীয় ১৪টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ৩১ কোটি ৪৭ লাখ ৯২ হাজার ৭০৮ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করে ওই টাকা জ্ঞাতসারে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন। এতে করে তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) এবং ৪(৩) ধারায় একটি মামলা করা হয়েছে।
আক্তার হোসেন জানান, আমু পাবলিক সার্ভেন্ট থাকাকালে পিতার সহযোগিতায় সুমাইয়া হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৪ কোটি ৪৩ লাখ ৫২ হাজার ৮১ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ তার নামে থাকা ১৮টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৪৮ কোটি ৪৯ লাখ ৫৯ হাজার ৬৪২ টাকা সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। ওই টাকা জ্ঞাতসারে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করায় সুমাইয়া হোসেনের বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর-৫(২) ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) এবং ৪(৩) ধারা তৎসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় আরও একটি মামলা করা হয়েছে।
এছাড়া, সৈয়দা হক মেরীর কোনো বৈধ আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও ভগ্নিপতি আমুর সহযোগিতায় অবৈধ উপায়ে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৭০ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ তার নামীয় ১৩টি ব্যাংক হিসাবে ৬২ কোটি ৬৮ লাখ ৪১৭ টাকা সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। সেই টাকা জ্ঞাতসারে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করায় সৈয়দা হক মেরী ও আমুর বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) এবং ৪(৩) ধারা তৎসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় তৃতীয় মামলাটি দায়ের করা হয়।
বিডি প্রতিদিন/কেএ