আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনে অটল দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। স্থানীয় নির্বাচন কিংবা সংস্কারের নামে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা মেনে নেবে না দলটি।
আগামী অক্টোবরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা চান নেতারা। প্রয়োজনে দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে সারা দেশে একের পর এক কর্মসূচি পালন করা হবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই হাইকমান্ড থেকে সর্বস্তরে পরিষ্কার নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আইনজীবীদের কর্মশালায় বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্বই হচ্ছে- যতদ্রুত সম্ভব জাতিকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, সুন্দর জাতীয় নির্বাচন উপহার দেওয়া।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রশ্নই আসে না। শুধু স্থানীয় সরকার নয়, জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্য কোনো ধরনের নির্বাচন হবে না।
সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনোক্রমেই দেশে স্থানীয় নির্বাচন চায় না বিএনপি। দলটির এই অবস্থানের কথা অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) তারা এরই মধ্যে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় নির্বাচন বিএনপি আগে না চাওয়ার বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতারা কয়েকটি কারণের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, এর প্রধান কারণ দলীয় প্রতীকবিহীন স্থানীয় নির্বাচন আগে হলে পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার ক্ষেত্রে এটাকে সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফরম হিসেবে কাজে লাগাতে পারে। ফলে দেশজুড়ে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হবে। যা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এটি সরকারের যে মূল ফোকাস জাতীয় নির্বাচন, সেই প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করতে পারে।
বিএনপি নেতারা মনে করেন, পতিত ফ্যাসিবাদের দোসরদের নানামুখী ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় অবিলম্বে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই হতে পারে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না চাওয়ার বিষয়টি আমাদের দলীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত। আইনি এবং সাংবিধানিক বিষয়াবলি বিবেচনায় নিয়ে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে বিএনপি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা যদি অগ্রাধিকার ঠিক না করি, দেশে একটি ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। তাছাড়া দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। আর সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। দেশে এ ধরনের সরকারের অধীনে অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কোনো নজির নেই।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান দুদু বলেন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা চলবে না। দরকার হলে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। তবুও এ বছরেই জাতীয় নির্বাচন আদায় করা হবে।
বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট আবদুুস সালাম আজাদ এ প্রসঙ্গে বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, যেটি আগামী সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে স্থানীয় নির্বাচনের কথা মাথায় আনা যাবে না। কারণ পতিত আওয়ামী লীগ গর্তের ভিতর মাথা লুকিয়ে রেখেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে তারা আবারও মাথাচাড়া দেবে। তাই আওয়ামী লীগকে সেই সুযোগ দেওয়া যাবে না।
বিডি প্রতিদিন/মুসা