জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর চানখাঁরপুল ও রামপুরা এলাকায় সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ২২ এপ্রিল দিন ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
অভিযুক্ত তিন পুলিশ হলেন, শাহবাগ থানার তৎকালীন ওসি অপারেশন আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল ইমাজ হোসেন প্রামাণিক ও সুজন হোসেন।
প্রসিকিউশনের করা একটি আবেদন মঞ্জুর করে আজ রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
সেইসঙ্গে, প্রসিকিউশনের অপর একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর বাড্ডা রামপুরা এলাকার তৎকালীন এসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২ মার্চ তারিখে আরশাদ হোসেনকে এবং ৩ মার্চ তারিখে ইমাজ হোসেন প্রামাণিককে জিজ্ঞাসাবাদ করার আদেশ দিয়েছে আদালত।
আজ আদালতে এ বিষয়ে শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন অফিসের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় মামলার আসামি আরশাদ হোসেন ও ইমাজ হোসেন গণহত্যার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিশেষত, আরশাদ হোসেন অত্যন্ত উদ্ধত একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী এক শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরেছিলেন তিনি। কে তাদের এ ধরনের অপরাধ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, নির্দেশ দিয়েছে, সেটা জানতে তাদেরকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।’
একইসঙ্গে, রামপুরায় জীবন বাঁচাতে চারতলার কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবক আমির হোসেনকে দু’জন পুলিশ মোট বারো রাউন্ড গুলি করে হত্যা করার চেষ্টা করেন। সে অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক এসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘তদন্ত সংস্থার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিছু যাচাই-বাছাই ও ফরেনসিক প্রক্রিয়া বাকি আছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাপ্ত তথ্য পেলে সেগুলোকেও যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করা হবে। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের আগেই আমরা প্রতিবেদনগুলো আদালতের কাছে দাখিল করতে সক্ষম হবো।’
বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ