আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইসি সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার ও বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সিইসি বলেন, নির্বাচনের পথে যত ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, ইইউ তা নিশ্চিত করেছে। তবে তারা মনে করছেন, সংস্কারের জন্য সময় কিছুটা কম। তারা নির্বাচনি সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভোটের তারিখ নিয়ে সরাসরি আলোচনা হয়নি, তবে আমরা জানিয়েছি, ডিসেম্বরের শেষ দিকে বা পরবর্তী বছরের শুরুতে নির্বাচন হতে পারে। এর বাইরে কিছু বলা সম্ভব নয়।
সিইসি আরও বলেন, ইইউ জানতে চেয়েছে, ডেমোক্রেটিক ট্রানজিশনের জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত। ভোটার নিবন্ধন থেকে শুরু করে নির্বাচনি প্রস্তুতির সময়সীমা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে তাদের জানিয়েছি।
সিইসি জানান, ইইউ বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তারা নির্বাচনি প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিনিধি পাঠাবে এবং কোথায় কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন তা যাচাই করবে। এছাড়া, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্যও আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইইউ।
তিনি বলেন, তারা বলেছেন, বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণ হলে এ প্রক্রিয়ায় যত ধরনের সহায়তা দরকার, তা দিতে প্রস্তুত। আমাদের সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে তাদের একটি দল আসবে। আমরা অনুরোধ করলে পর্যবেক্ষক পাঠানোরও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে ইসি সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সিইসি। তিনি বলেন, আমরা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছি এবং ইইউ প্রতিনিধি দল আমাদের এ প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
নির্বাচনি সংস্কারের সুপারিশে ইসির স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়েছে কমিশন। সিইসি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ইসির স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকা জরুরি। আমরা কোনোভাবেই ইসির স্বাধীনতায় আপস করতে চাই না। ইইউ প্রতিনিধিরাও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।
ইইউর সফররত দু’জন গণতন্ত্র বিশেষজ্ঞও বৈঠকে অংশ নেন। আলোচ্যসূচিতে ছিল নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ, নির্বাচনি প্রশাসন, ভোটার নিবন্ধন, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন, নির্বাচনি প্রযুক্তি, প্রচার ও ব্যয়, পর্যবেক্ষক এবং সহায়তা। ২০২৫ সালের শেষ থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। ইসি এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ