জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, শহীদদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার মধ্য দিয়ে জুলাই বিপ্লবের চেতনার বাস্তবায়ন করা হবে। গণহত্যার সাথে জড়িতরা এখনো দেশে ঘাপটি মেরে থেকে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সংস্কার দ্রুত শেষ করে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। আর নির্বাচনের আগেই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করতে হবে।
বুধবার সকালে নানকিং দরবার হলে জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত চব্বিশের রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের তথ্য সম্বলিত ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতার শহীদ যারা’ শীর্ষক স্মারকের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে দুই হাজারেরও বেশি লোক জীবন দিয়েছেন। ৩৮ হাজার মানুষ রক্ত দিয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন। তাই ১৮ কোটি মানুষের দাবি, এই গণহত্যার বিচার সবার আগে সম্পন্ন করতে হবে।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখনো ফ্যাসিবাদের দোসর সরকারের ভেতরে-বাইরে বিভিন্ন জায়গায় আছে, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনুন। শহিদ পরিবারগুলো কীভাবে আছে সেই খোঁজ আপনারা যথাযথভাবে রাখছেন না। শহীদ ও আহত পরিবারের দেখভাল করা ও তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। আর ভবিষ্যতে যেন এ দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদের উত্থান হতে না পারে, এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রাজশাহী মহানগরীর আমির ড. কেরামত আলী বলেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। শহীদদের যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে। প্রিয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা ও জাতিকে আত্মনির্ভরশীল রাখতে আমাদের শপথ নিতে হবে এবং আধিপত্যবাদী ও ষড়যন্ত্রকারী অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে সারা দেশের ১১টি মহানগরীতে একযোগে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগদেন কেন্দ্রীয় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া মো. গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রাজশাহী মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাহবুবুল আহসান বুলবুল ও অধ্যাপক শাহাদৎ হোসাইন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাড. এরশাদ আলী ইশা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর মাইন উদ্দিন, জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী জেলা আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেক, নাটোর জেলা আমির মীর নুরুল ইসলাম, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক নজরুল হুদা, রাজশাহী মহানগরীর জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাড. আবু মোহাম্মদ সেলিম, চাপাই নবাবগঞ্জ জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সবুর, রাজশাহী জেলা সেক্রেটারি গোলাম মুর্তজা, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দিন সরকার, মাইনুল ইসলাম, সারওয়ার জাহান প্রিন্স, সিরাজুল ইসলাম, আশরাফুল আলম ইমন, তৌহিদুর রহমান সুইট, আমিনুল ইসলাম, কামরুজ্জামান সোহেল, হাফেজ নুরুজ্জামান, অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, মাওলানা রুহুল আমিন, সালাহউদ্দিন আহমেদসহ রাজশাহী মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও থানা আমিররা।
বিডি প্রতিদিন/কেএ