জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট সেবা নিয়ে দুর্ভোগ-জটিলতা নিরসনে স্বতন্ত্র কমিশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সে লক্ষ্যে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন (কমিশন), ২০২৫’ নামে একটি অধ্যাদেশের খসড়া তৈরির কাজ চলছে। এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নির্বাচন কমিশনে থাকা উচিত। এনআইডির বিষয়ে সরকারকে লিখিতভাবে ইসির মতামত জানানো হবে।
‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন (কমিশন), ২০২৫’ নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ স্থানীয় সরকার, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের মতামতও নিচ্ছে। খসড়াটি নিয়ে পর্যালোচনার লক্ষ্যে ‘আইনের খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক মতামত প্রদান’ সংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় কমিটির প্রথম সভা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের এ বৈঠকে ইসি সচিবালয়ের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, এনআইডি কার্যক্রম নিয়ে গেলে সমস্যা হবে। তিনি বলেন, এনআইডি কার্যক্রম নিয়ে যাবে এমন তথ্য জানা নেই। সরকারের চিন্তা সব সেবা এক জায়গা থেকে দেওয়া যায় কি না। কিন্তু আমাদের প্রতিনিধি সরকারকে জানিয়ে এসেছেন আমাদের মতামত। সরকার আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করে সিদ্ধান্ত নেবে না বলেই প্রত্যাশা করি। লিখিতভাবে ইসির মতামত জানানো হবে। এনআইডি কার্যক্রম নিয়ে গেলে সমস্যা হবে, তা আমরা জানাব। এখন ভোটার নিবন্ধন চলছে, সামনে জাতীয় নির্বাচন আছে। এর মধ্যে তড়িঘড়ি করে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেবে বলে মনে হয় না। এমন আলোচনায় ইসির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা কাজ করছে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, এনআইডির কাঠামোগত অবস্থানটা আরও ব্যাপ্ত করার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, এটার ব্যাপারে কেবিনেট ডিভিশন একটা উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এটা নিয়ে আলোচনা চলছে।
জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে আইন করা হয়েছিল, ক্ষমতার পালাবদলের পর তা বাতিল চেয়ে চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। তাদের দাবি মেনে আইনটি বাতিল হলে এনআইডি সেবা বরাবরের মতোই নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকবে। ওই প্রস্তাব অনুমোদনের পর সরকারকে অধ্যাদেশ জারি করে আইনটি বাতিল এবং আগের আইন বহাল করতে হবে। এ ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ গত ১৬ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছিলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা নিজেদের কাছে রাখতে নির্বাচন কমিশনের পাঠানো প্রস্তাব অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।
এদিকে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন সংস্থা’ নামে একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন সংবিধিবদ্ধ সংস্থা গঠনের সুপারিশ করেছে সরকারের কাছে। এনিয়ে আপত্তি জানিয়ে ২৬ জানুয়ারি সিইসি বলেন, ‘ভোটার এনআইডি কার্ড, ভোটার রেজিস্ট্রেশন পরবর্তী পর্যায়ে স্বাধীন অধিদপ্তর/পরিদপ্তরে হ্যান্ডওভার করার জন্য সাজেস্ট করছেন। এটা আরেকটা কর্তৃপক্ষকে দিলে আমার কি তার ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকবে? এটা অসম্ভব।’