খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এ সংঘর্ষের পর গত পাঁচ দিনেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।
কুয়েট ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের অপসারণসহ ছয় দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল তারা ক্যাম্পাসে মিছিল অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এর আগে শুক্রবার রাতে ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের বাসভবনে শিক্ষার্থীরা তালা ঝুলিয়ে দেন। যদিও তিনি এর আগেই চিকিৎসার জন্য ক্যাম্পাস ছাড়েন।
অন্যদিকে ভিসিকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করলে ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষক সমিতির নেতারা। তাঁরা উল্লেখ করেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা ব্যর্থতার অভিযোগে একজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা কোনো পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা মেনে নেবেন না। এহেন ঘৃণ্য আচরণে কুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংঘটিত হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এর নেপথ্যে কুচক্রী, স্বার্থান্বেষী মহল তথা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের চক্রান্ত জড়িত রয়েছে। জানা যায়, ধারাবাহিক আন্দোলনে গতকাল শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন। ক্যাম্পাসের স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন হলের সামনের সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারও স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ারের সামনে এসে শেষ হয়। এখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, হামলার ঘটনার চার দিন পরও জড়িতরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তাঁরা। তাঁরা ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। ভিসি, প্রো-ভিসির অপসারণ চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, প্রায় চার ঘণ্টা যাবৎ হামলা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কোনো ধরনের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। ফলে শিক্ষার্থীরা ভিসি, প্রো-ভিসির পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। আলটিমেটাম দেওয়ার পরেও দাবি পূরণ না হওয়ায় ভিসির অপসারণ দাবি করা হয়। শিক্ষার্থীরা অভিভাবকহীন ও অনিরাপদ কুয়েট ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় চলমান করার জন্য অতিদ্রুত নতুন ভিসি ও প্রো-ভিসি নিয়োগের দাবি জানান। সংবাদমাধ্যমে পাঠানো শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৮ ফেব্রুয়ারি বহিরাগত সন্ত্রাসী কর্তৃক ধারালো অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নির্মমভাবে আহত করার ঘটনায় শিক্ষক সমিতি তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। একইসঙ্গে কিছু শিক্ষার্থী কর্তৃক ভাইস চ্যান্সেলরসহ কয়েকজন শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।