নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়ছে। যদিও গত বছর শ্রমিক বিক্ষোভ, আন্দোলনে কারখানা বন্ধ, মজুরির আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংকটে পড়েছিল এ খাত। তবে এখন এ শিল্পের সংকট কাটতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে ভালো করছে বাংলাদেশ। রপ্তানি হওয়া ৬৯ শতাংশ তৈরি পোশাকের গন্তব্য হয়ে উঠেছে এখন দুই বাজার। গত সাত মাসের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ দুই বাজারে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর আমেরিকার অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোয় পোশাক বিক্রি বেড়েছে। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতিও এ বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান জোরদার হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর গত সাত মাসের রপ্তানি পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের সাত মাসে ইউরোপের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং অপ্রচলিত বাজারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ইউরোপের বাজারে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সাত মাসে তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। আয় হয়েছে ১ হাজার ১৮১ কোটি ১৬ লাখ ডলার। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৩৬ কোটি ডলার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে
১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আয় হয়েছে ৪৪৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার। এর আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৩৮৪ কোটি ডলার। এ ছাড়া কানাডার বাজারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ২৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে আয় হয়েছে ৭৫ কোটি ডলার। এর আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৬৫ কোটি ১৩ লাখ ডলার। পোশাক খাতের শীর্ষ বাজার ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও এ সময় ইতিবাচক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত সাত মাসে এসব বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ সময় আয় হয়েছে ৩৯৬ কোটি ৬১ লাখ ডলার। এর আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৩৭২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে ভালো করেছে তুরস্ক, ব্রাজিল এবং ভারত।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘গত সাত মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ভালো। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর ফলে দেশের পোশাক খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ভালো হচ্ছে। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন মেক্সিকো ও চীনের জন্য যে শুল্কনীতি দিয়েছে, এতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘রপ্তানি ইতিবাচক হওয়ার কারণ আমাদের ওপর বায়ারদের আস্থা। সাময়িক সময়ের জন্য হয়তো অর্ডার কমে। অনেক সময় অর্থনৈতিক মন্দার কারণে তারা আমাদের থেকে পণ্য কেনে না। এরপর সারা বিশ্বে যখন রপ্তানি বাড়ে তখন আমাদের দেশে সবার আগে রপ্তানি বাড়ে। কারণ, আমাদের ওপর তাদের আস্থা আছে। আমাদের অর্ডার সামনে আরও বাড়বে। এ বছরটি আমাদের পোশাক খাতের জন্য মাইলফলক হবে। রেকর্ড পরিমাণ অর্ডার আসবে।’ নতুন দেশে রপ্তানি না বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘নতুন দেশের কেনার সামর্থ্য থাকতে হবে। সবচেয়ে বেশি ক্রয়ক্রমতা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের। এর বাইরে হাতেগোনা কয়েকটি দেশ রয়েছে। অনেক দেশে নিজেরাও পোশাক বানায়। চায়না, ভারত ও ব্রাজিল ইমাজিং মার্কেট, এরা নিজেরাই পণ্য তৈরি করে। যারা পোশাক তৈরি করে না এমন সব বাজারে বাংলাদেশ ভালো করছে।