পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের এমপিদের নামে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা ২৪টি বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি নিলামে তুলে প্রত্যাশিত দাম পেল না চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। প্রতিটি গাড়ির ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৫টি গাড়ির জন্য বিড হয়েছে। বাকি ৯টি গাড়ি কিনতে কেউ আগ্রহই দেখাননি। যে গাড়িগুলো ক্রেতারা কিনতে চেয়েছেন তার মধ্যে শুধু একটি গাড়ির সর্বোচ্চ দাম উঠেছে ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। অন্য গাড়িগুলোর দাম আরও কম। ভিত্তিমূল্যের ৬০ শতাংশে শর্তও পূরণ হয়নি কোনো গাড়ির ক্ষেত্রেই। ফলে প্রথম নিলামে ২৪টি গাড়ির একটিও বিক্রি সম্ভব হচ্ছে না। এসব গাড়ির জন্য এখন দ্বিতীয় দফা নিলাম ডাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে কাস্টম কর্তৃপক্ষ।
সাবেক এমপিদের জন্য আমদানিকৃত গাড়িগুলো ছিল জাপানের তৈরি ও ২০২৪ মডেলের ব্র্যান্ডনিউ কার। এ ধরনের গাড়ির প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ার কারণ হিসেবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক গাড়ির একজন আমদানিকারক জানান, এ ধরনের গাড়ি দেশের বাজারে পাওয়া যায়। যার প্রতিটির দাম বড়জোর ৪ থেকে ৬ কোটি টাকা হতে পারে। নিলামে অংশগ্রহণকারীদের সংগঠন চট্টগ্রাম বিডার কল্যাণ সমিতির সভাপতি ফেরদৌস আলম বলেন, কাস্টম হাউসের দেওয়া দাম বর্তমান বাজারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই দামে গাড়ি কিনলে পোষাবে না। একজন ক্রেতা কিছু লাভের আশায় নিলামে অংশ নেন। সেই ক্ষেত্রে লোকসনের আশঙ্কা থাকলে তিনি নিলাম থেকে বিরত থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। এ ছাড়া বর্তমানে দামি গাড়ির ক্রেতা কম। তাই এসব গাড়ি কিনতে গেলে লোকসান হতে পারে ভেবে অনেকে নিলামে অংশ নেননি। দামি গাড়ি কেনার ঝুঁকি ক্রেতারা নিতে চাচ্ছেন না। তাই ক্রেতাদের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি।
সাবেক এমপিদের ২৪টি গাড়ি বিক্রির জন্য সহসাই দ্বিতীয় দফা নিলাম ডাকা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার মো. সাকিব হোসেন। তিনি জানান, ক্রেতারা হয়তো মনে করেছেন এই মূল্য বেশি, তারা লাভ করতে পারবেন না। দ্বিতীয় নিলামে লাভের মধ্যে থাকবেন মনে করলে তারা গাড়ি নিতে পারেন। তিনি আরও বলেন, কাস্টমসের পক্ষে মূল্য কমানো বা বাড়ানোর সুযোগ নেই। ডকুমেন্ট অনুযায়ী প্রতিটি গাড়ির আমদানি মূল্য ১ কোটি টাকার বেশি। আমদানি শুল্ক ৮২৬ শতাংশ ও অন্যান্য চার্জ হিসাব করে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ কোটি ৬৭ লাখ। এর বাইরে আরও ২৫ শতাংশ ভ্যাট ও শুল্ক দিতে হবে ক্রেতাকে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী প্রথম নিলামে কোনো পণ্যের দাম ৬০ শতাংশ না উঠলে দ্বিতীয়বার নিলাম ডাকতে হয়। দ্বিতীয় দফায় আগের নিলামের চেয়ে বেশি পাওয়া গেলে পণ্য বিক্রি করে দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশের শর্ত প্রযোজ্য হয় না। যদি দ্বিতীয় দফায় প্রথম নিলামের বেশি দাম পাওয়া না যায়, তাহলে তৃতীয় দফা নিলাম ডাকা হয়। সেই নিলামে সর্বোচ্চ যেই দরই উঠুক না কেন, পণ্য বিক্রি করে দেওয়া হয়।
গত সংসদের সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এই ২৪টি বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করা হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংসদ ভেঙে যাওয়ায় এমপিরা আর শুল্কমুক্ত সুবিধা পাননি। শুল্ক পরিশোধ করে ছাড় করাতেও আগ্রহ দেখাননি তারা। খালাস না নেওয়ায় পরবর্তী সময়ে গাড়িগুলো নিলামে তোলা হয়। সাবেক এমপিদের ২৪টিসহ মোট ৪৪টি গাড়ির জন্য অনলাইন নিলাম ডাকা হয়েছিল। ২৭ জানুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা পর্যন্ত দর দাখিল করার সুযোগ ছিল। ১৭ ফেব্রুয়ারি জমা পড়া দর উন্মুক্ত করে কাস্টম কর্তৃপক্ষ।