মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ পরিচালনায় প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে করা রিটটি খারিজ করে রায় দিয়েছেন হাই কোর্ট। গতকাল বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ সংক্রান্ত রুল ডিসচার্জ করে এ রায় দেন। রায়ে আদালত বলেন, নগদ বাংলাদেশ ডাক বিভাগের এজেন্ট। আইন বাস্তবায়ন করেই বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জমির উদ্দিন সরকার, মুস্তাফিজুর রহমান খান, আইনজীবী আবুল কালাম খান, মো. জামিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বি এম ইলিয়াস কচি, আইনজীবী সাজ্জাদ হায়দার ও সাইফুল ইসলাম। রায়ের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী বি এম ইলিয়াস কচি সাংবাদিকদের বলেন, নগদ ডাক বিভাগের এজেন্ট বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশাসক নিয়োগের আগে কারণ দর্শানোর জন্য ডাক বিভাগকে নোটিস দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ডাক বিভাগ নোটিসের জবাব দেয়। এ ছাড়া নগদের কার্যক্রম পরিদর্শন করে বাংলাদেশ ব্যাংক অনিয়ম পায়। এসবের ভিত্তিতে গ্রাহকদের স্বার্থেই প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে রিট আবেদনকারীকে কোনো নোটিস দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয় রিটে। আইনজীবী বলেন, আদালত বলেছেন যেহেতু নগদ ডাক বিভাগের এজেন্ট, তাই রিট আবেদনকারীর সংক্ষুব্ধতা থাকলে তিনি সেখানে আবেদন করতে পারতেন, যা তিনি করেননি। এসব দিক বিবেচনায় রিট গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় তা খারিজ করে রায় দিয়েছেন হাই কোর্ট। এর ফলে নগদে প্রশাসক নিয়োগ বৈধ বলে প্রমাণিত হলো। গত বছরের ২১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক নগদে প্রশাসক নিয়োগ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আদেশ জারি করে। এতে বলা হয়, ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক সেবা ‘নগদে’ চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদারকে এক বছরের জন্য প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হলো। প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নগদের স্বতন্ত্র পরিচালক মো. শাফায়েত আলম গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর রিট করেন। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাই কোর্ট ‘নগদে’ প্রশাসক নিয়োগ প্রশ্নে রুল জারি করেন।