সিলেট নগরীকে দুই ভাগ করে বয়ে গেছে সুরমা। একসময় স্রোতস্বিনী এই নদী ঘিরেই চলত ব্যবসাবাণিজ্য, জীবন-জীবিকা। এখন আর সেই যৌবন নেই। ফুলেফেঁপে উঠেছে তলদেশ। কমেছে নাব্য। সিলেট নগর অংশে দখলদারি কিছুটা কমলেও কমেনি দূষণ। নদীর দুই পাড়ে সমানতালে ফেলা হয় বর্জ্য। যেখানে জনবসতি ও বাণিজ্যিক স্থাপনা বেশি সেখানে দূষণও বেশি। বর্জ্যরে সঙ্গে ফেলা পলিথিন ও প্লাস্টিকে মরছে সুরমা। পলিথিনের স্তর পড়েছে তলদেশে। সুরমা খনন করতে গিয়ে বেগ পেতে হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা জানান, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সুরমার ১৫.৫ কিলোমিটার খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তলদেশে পলিথিনের স্তর থাকায় খনন ব্যাহত হয়।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, সুরমা নদীর তীর পরিচ্ছন্ন রাখতে সিটি করপোরেশন কাজ করে। সচেতনতার অভাবে মানুষ যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে। এতে নদীর পরিবেশ-প্রতিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সেভ দ্য হেরিটেজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’র প্রধান নির্বাহী আবদুল হাই আল হাদী জানান, সুরমা রক্ষার দায়িত্ব পাউবো, সিটি করপোরেশন ও সাধারণ জনগণের। এ দায়িত্ব পালন না করে সবাই দূষণের খেলায় মত্ত। নগরের কাজীর বাজারের ব্যবসায়ী শাহেদ আহমদ জানান, বাজারের অনেকেই ময়লা-আবর্জনা নদীর তীরে ফেলেন। কেউ বাধা দেন না। বৃষ্টি হলে সেগুলো নদীতে চলে যায়। এর মধ্যে পলিথিনের পরিমাণই বেশি। সুরমা নাব্য হারানোয় বিরূপ প্রভাব পড়ছে জীববৈচিত্র্যে। আগে সারা বছর জেলেরা মাছ ধরলেও এখন সেই দৃশ্য দেখা যায় না। কুশিঘাটের বাসিন্দা ইমতিয়াজ রহমান ইনু জানান, আগে এলাকার অনেকে জাল ও বড়শি দিয়ে মাছ ধরতেন। করতেন জীবিকা নির্বাহ। বর্তমানে সুরমায় মাছের দেখাই মেলে না।সিলেট নগরীর পানি নিষ্কাশন হয় ১১টি ছড়া ও খাল দিয়ে। সবকটি ছড়া-খাল নগরীর ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এসে পড়েছে সুরমায়। প্রতিদিন নিষ্কাশিত পানির সঙ্গে পলিথিন ও প্লাস্টিক এসে পড়ে নদীতে। বর্ষায় এ দূষণ বেড়ে যায়। শুষ্ক মৌসুমে সুরমা নদীর তীর শুকিয়ে গেলে সেখানে ফেলা হয় আবর্জনা। এতে নদীর তীরে স্তূপ হয়ে থাকে প্লাস্টিক ও পলিথিন। বৃষ্টি ও বাতাসে সেই পলিথিন নদীর পানিতে পড়ে তলদেশে জমাট বাঁধে। পানিপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে জেগে ওঠে চর। বর্ষার স্রোতস্বিনী সুরমা শুষ্ক মৌসুমে হয়ে যায় সরু নালা। সরেজমিন দেখা গেছে, সিলেট নগরীর তোপখানা, কাজীর বাজার, শেখঘাট, কুশিঘাট, মাছিপুরসহ নদী তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ পড়ে আছে। সুরমায় গড়িয়ে পড়ছে অপচনশীল পলিথিন ও প্লাস্টিক দ্রব্য।