টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো মাওলানা সাদ অনুসারীদের অংশগ্রহণে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা। মোনাজাত পরিচালনা করেন দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের প্রধান মুরুব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ। গতকাল দুপুর ১২টা ৩৭ মিনিটে শুরু হয় আখেরি মোনাজাত, শেষ হয় ১টা ৭ মিনিটে। মোনাজাতে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। মোনাজাত শুরু হওয়ার পর পিনপতন নীরবতা নেমে আসে পুরো ইজতেমা ময়দানে। দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা, পুরো মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও হেদায়েত, জিন্দিগির গুনাহ মাফ, দ্বিনের মেহনতে সময় দেওয়ার তৌফিকদান, আখেরাতে পুলসিরাত পারসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করা হয়। এ সময় মুসল্লিরাও কেঁদে কেঁদে আমিন, আমিন বলেন।
এর আগে ভোর থেকে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে গাজীপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার মুসল্লিরা টঙ্গীর দিকে যাত্রা করেন। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ বাস ও পিকআপে করে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে মোনাজাত স্থলে পৌঁছান। মোনাজাত শুরু হওয়ার আগেই ইজতেমা ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা না পেয়ে অনেকে ময়দানসংলগ্ন সড়ক, গলি ও অলিগলিতে বসে পড়েন। সাদ অনুসারী ইজতেমার সমন্বয়ক মোহাম্মদ সায়েম বলেন, গতকাল ফজরের পরে বয়ান করেন মাওলানা মোরসালিন (দিল্লি নিজামউদ্দিন)। তার বয়ান তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা মুনির বিন ইউসুফ। এর পর সকাল সাড়ে ৯টায় হেদায়েতি বয়ান করেন মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ। তাঁর বয়ান তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা মুনির বিন ইউসুফ। হেদায়েতের বয়ান শেষ হওয়ার পরই বেলা ১২টা ৩৭ মিনিটে বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজত শুরু হয়। ৩০ মিনিট ধরে চলে এই মোনাজাত। তিনি আরও জানান, ইজতেমার এবারের পর্বে ৬৪টি দেশের ১ হাজার ৫৮৪ জন বিদেশি মেহমান অংশ নেন। বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের এ আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান ময়দান প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, সাদ অনুসারী ও শুরায়ে নেজাম অনুসারীদের ইজতেমা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
ময়দানের নিরাপত্তা বেশ ভালো ছিল। ইজতেমায় আগত দেশ-বিদেশের মুসল্লিদের সেবায় যারা শ্রম দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
১৩ মুসল্লির মৃত্যু : টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে প্রথম পর্বে ১০ মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে আরও তিন মুসল্লির মৃত্যু হয়। এনিয়ে এবারের ইজতেমায় সর্বমোট ১৩ জন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে।