শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বগুড়াকে সিটি করপোরেশন করতে চান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ (রবিবার) ডিসি সম্মেলনে বগুড়াকে সিটি করপোরেশনের প্রস্তাব দেবেন জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা। এ ছাড়া বগুড়ায় বিমানবন্দরসহ থমকে যাওয়া উন্নয়ন কাজগুলোর সংস্কার করার প্রস্তাবও দেওয়া হবে। আয়তন, জনসংখ্যা আর রাজস্ব সব শর্ত পূরণ করলেও দীর্ঘদিন ধরে সিটি করপোরেশনের দাবি পূরণ হয়নি বগুড়াবাসীর। নাগরিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন এ জেলার মানুষ। জেলায় প্রায় ৪৫ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ২৯ লাখ ৫০ হাজার ভোটার রয়েছে। এ ছাড়া সরকারি রাজস্ব নিয়ে বহু আগেই সিটি করপোরেশনের শর্ত পূরণ করেছে ২০০ বছরের পুরোনো জেলা শহর বগুড়া। ভৌগোলিক তাৎপর্য থেকে শিল্প-বাণিজ্যের প্রসার, সব মিলিয়ে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার উপযুক্ত সময় মনে করছেন বগুড়াবাসী।
জানা গেছে, ডিসি সম্মেলনে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ও বিমানবন্দর করার প্রস্তাব দেওয়া হবে। এ ছাড়া কৃষি, সমাজসেবা, বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ রেললাইন, অর্থনৈতিক জোন, দ্বিতীয় বিসিক করার প্রস্তাবনাও রয়েছে এ সম্মেলনে। দীর্ঘদিন এ উন্নয়নগুলো বগুড়ায় হয়নি। সংস্কারের অংশ হিসেবে বগুড়ায় এ উন্নয়নগুলো করা হবে। এর মধ্যে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ও বিমানবন্দরের বিষয়ে বেশি শুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দেশের কয়েকটি বিভাগীয় শহরের চেয়ে বগুড়া পৌরসভা আয়তনে দ্বিগুণ হলেও পতিত হাসিনা সরকার বগুড়াকে দেখেছে ভিন্ন চোখে। তাই সিটি করপোরেশন ঘোষণাসহ কোনো উন্নয়ন হয়নি বগুড়ায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার বাড়ি এ জেলায় হওয়ায় বঞ্চিত হয়েছেন জেলাবাসী। এর আগে ২০০৪ সালে বিএনপি সরকার থাকাকালীন বগুড়াকে সিটি করপোরেশন করার জন্য পৌরসভাকে ২১টি ওয়ার্ডে রূপান্তরিত করেন তারেক রহমান। ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বগুড়া শহরের আয়তন ৬৯.৫৬ বর্গকিলোমিটার। উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বগুড়াকে বিভাগ করার দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছেন বগুড়াবাসী। বগুড়ার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিপার আল-বখতিয়ার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল সে সময় তারেক রহমানের নেতৃত্বে বগুড়ায় হাসপাতাল, রাস্তাঘাট, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানাসহ যে উন্নয়ন হয়েছিল সেটি উত্তরের মানুষের সুফল বয়ে এনেছে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসায় তারেক রহমানের জেলা বগুড়ায় কোনো উন্নয়ন হয়নি। বগুড়ার উন্নয়নের জন্য বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। বগুড়া জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি বলে প্রতিহিংসায় সব উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন করলেও বগুড়াকে হাসিনা দেখেছেন ভিন্ন চোখে। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতন হলে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন এ জেলার মানুষ।
বগুড়া জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা জানান, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পৌর এলাকার জনসংখ্যা অন্তত ৪ লাখ হতে হবে। বগুড়া পৌরসভার বাসিন্দা রয়েছে সাড়ে ৪ লাখেরও বেশি। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩ হাজার জন প্রয়োজন হলেও বগুড়া শহরে আছে ৫ হাজার ৮৪৩ জন। পৌর এলাকার আয়তন ৬৯.৫৬ বর্গকিলোমিটার। এ ছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ পৌরসভার বার্ষিক আয় ৪৬ কোটি টাকার বেশি। যা সিটি করপোরেশন হওয়ার শর্ত অতিক্রম করেছে।