বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) মো. আবদুল বাতেনের স্থাবর সম্পদ জব্দ ও অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। স্থাবর সম্পদের মধ্যে সুনামগঞ্জ এলাকায় ১০০ শতাংশের অধিক জমি রয়েছে। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে চারটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা ৪ কোটি ৩৯ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯৭ টাকা ও এনআরবিসি ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্ট। আবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ডিআইজি মো. আবদুল বাতেন ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎপূর্বক নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছেন। অভিযোগসংশ্লিষ্ট মো. আবদুল বাতেন ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের মালিকানাধীন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন, যা করতে পারলে অত্র অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় মামলা রুজু, আদালতে চার্জশিট দাখিল, আদালত কর্তৃক বিচার শেষে সাজার অংশ হিসেবে অপরাধলব্ধ আয় থেকে অর্জিত সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্তকরণসহ সব উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। তাই সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য স্থাবর সম্পত্তি জব্দ ও অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
ডিপিডিসির হুজ্জতের সম্পদ জব্দ : ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. হুজ্জত উল্লাহর ফ্ল্যাটসহ স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ১১৭ টাকা। গতকাল ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। আবেদনে বলা হয়, আসামি হুজ্জত উল্লাহ দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ৯০ লাখ ১২ হাজার ৭০৫ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপনপূর্বক মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন। তিনি ১ কোটি ৯৩ লাখ ৯২ হাজার ৭০৫ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করে ভোগ দখলে রেখেছেন। এতে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্তকালে আসামি হুজ্জত উল্লাহর অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে না পারায় তার নামে থাকা ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ১১৭ টাকার স্থাবর সম্পদ যেন হস্তান্তর করতে না পারে সেজন্য তা জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন। এর আগে গত বছরের ৮ জুলাই দুদকের উপপরিচালক সেলিনা আখতার বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।