আকর্ষণীয় বড় বড় মাছ আর মিষ্টিতে জমে উঠেছে বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা। গতকাল থেকে উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের পোড়াদহে সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে ইছামতী নদীর তীর ঘেঁষে ব্যক্তি মালিকানা জমিতে এই মেলা বসেছে। আজ বসবে বউমেলা।
পোড়াদহ মেলাকে ঘিরে উপজেলার দুর্গাহাটা হাইস্কুল মাঠ, দাড়াইল বাজার, সাবগ্রাম, অদ্দিরগোলা, পাঁচমাইল বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে মেলা বসানো হয়েছে। মেলার আকর্ষণ বড় বাঘাইড়, বোয়াল, কাতলা, রুই, ব্লাক কার্প, গ্লাস কার্প, মৃগেল, সিলভারকার্প, ব্রিগেড, কার্প, চিতলসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের মাছ। মেলায় ৩৫ কেজি ওজনের বাঘাইড় বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৭০০ টাকা কেজি, ২৭ কেজি ওজনের কাতলা বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি, ২০ কেজি ওজনের ব্লাক কার্প বিক্রি হয়েছে ১ হাজার টাকা কেজি এবং মাছ আকৃতির ১৫ কেজি ওজনের মিষ্টি ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বিভিন্ন জাতের মাছ এ মেলার প্রধান আকর্ষণ।
বাহারি মিষ্টান্নসামগ্রী এ মেলার আরেক আকর্ষণ। মাছ আকৃতির মিষ্টি, রসগোল্লা, সন্দেশ, জিলাপি, নিমকি, তিলের নাড়ু, খই, শুকনা মিষ্টি পাওয়া যায়। দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের মিষ্টি পোড়াদহ মেলার অন্যতম আকর্ষণ। ১২ কেজি ওজনের মাছ আকৃতির মিষ্টি ছিল এবার প্রধান আকর্ষণ। মেলায় বাহারি রকমের কসমেটিকস, খেলনা, গিফটসামগ্রী, চুড়ি, কানের দুল, মালা, কাজলসহ নানা ধরনের প্রসাধনীসামগ্রী পাওয়া যায়। এ ছাড়া এ মেলায় পাওয়া যায় কাঠের, স্টিল ও লোহার বিভিন্ন আসবাবপত্র।
মেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি নিকুঞ্জ কুমার পাল জানান, শত শত বছর আগে থেকে সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী ও জামাই মেলা হয়ে আসছে। শান্তিপূর্ণভাবে ৪৫৩তম মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বউমেলা বসবে।