কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রাজু হোসেন (১৮) নামের এক তরুণকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের পদ্মানদীর চরে নিয়ে গিয়ে তাকে গুলি করে ফেলে রেখে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহত রাজু ওই ইউনিয়নের ফারাকপুর ভাঙ্গাপাড়া এলাকার ইব্রাহিম প্রামাণিকের ছেলে। এই ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সজীব নামে এক যুবককে আটক করেছে।
তবে কী কারণে কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এ বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। এলাকাবাসীর ধারণা, মাদক ব্যবসাসহ বালুমহালের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে পারে। নিহতের স্বজনরা জানান, একই গ্রামের মতলব কসাইয়ের ছেলে সজীব সোমবার রাত ৯টার দিকে রাজুকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। রাত ১টার দিকে পরিবারের লোকজন জানতে পারেন রাজুকে গুলি করা হয়েছে। দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, রাত সোয়া ১টার দিকে বুকের বাম দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রাজুকে দৌলতপুর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের স্বজন ও মরিচা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, রাজুকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের কয়েকদিন আগে সাঈদ বাহিনীর লোকজনের সঙ্গে তার বাগ্বিতন্ডা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী জানান, চরাঞ্চলের ত্রাস সাঈদ বাহিনীর সহযোগী হিসেবে এক সময় রাজু কাজ করত। চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বালু, অস্ত্র, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে স্থানীয় সাঈদ বাহিনীর সদস্যরা। বেশ কিছু দিন হলো রাজু সাঈদ বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের সঙ্গে চলাফেরা করত। এ কারণে সাঈদের লোকজন তার ওপরে ক্ষুব্ধ ছিলেন। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। হত্যার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। পুলিশ হত্যাকান্ডের ঘটনায় সজীব নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। তার কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্যগুলো যাচাইবাছাই এবং তদন্ত করে দেখছি। তবে হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।