গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই ভারতের আদানি পাওয়ারের ঝাড়খন্ড কেন্দ্রের সক্ষমতার পুরো ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের পুরোটাই চাইছে বাংলাদেশ। গতকাল বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়। শীত মৌসুমে চাহিদা কম থাকায় ও বকেয়া পরিশোধ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় সাড়ে তিন মাসের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে চুক্তির অর্ধেক পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল আদানি পাওয়ার।
রয়টার্স তার প্রতিবেদনে লিখেছে, ১ নভেম্বর একটি ইউনিট বন্ধ করে দেওয়া হলে কেন্দ্রের সক্ষমতার ৪২ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। পরে বাংলাদেশও আদানি কর্তৃপক্ষকে অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে বলে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) কর্তৃপক্ষ বলছেন, তারা প্রতি মাসে সাড়ে আট কোটি ডলার বকেয়া পরিশোধ করছে। এখন আদানিকে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।
বিপিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিদ্যুতের চাহিদা থাকায় আমরা গত সোমবার আদানি কর্তৃপক্ষকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু করতে বলেছিলাম। সে অনুযায়ী তারা মেশিন চালুও করেছিল; কিন্তু হাই ভাইব্রেশনের কারণে দ্বিতীয় ইউনিটটি আর চালু করা যায়নি। কারিগরি জটিলতার কারণে তারা মেশিন বন্ধ করে দেয়। সব ঠিক থাকলে হয়তো আবার মেশিন চালু করবে। সাধারণত এ ধরনের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি চালু হতে ৮ থেকে ১০ দিন সময় লেগে যায়। আগামীকাল সেখানে কারিগরি বিশেষজ্ঞ টিম অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে। তাদের বলা আছে, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়ার জন্য। আমরা এখন মাসে ৮৫ মিলিয়ন ডলার করে তাদের পাওনা পরিশোধ করছি। বকেয়া নিয়ে আদানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো ঝামেলা এখন নেই।’ আদানির থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের জন্য ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর চুক্তি করে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিভাগ। ২৫ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ দিতে ভারতের ঝাড়খন্ডের গড্ডায় ২০০ কোটি ডলার ব্যয়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করে আদানি পাওয়ার। ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই কেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল আদানি; কিন্তু আওয়ামী সরকারের পতনের পর ৮৫ কোটি ডলারের বকেয়া আদায়ে গত ৩১ অক্টোবর বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেক করে দেয় ভারতীয় কোম্পানি। মূলত শীতে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা কম ছিল। এ ছাড়া বিদ্যুতের বকেয়া বিল পরিশোধ নিয়ে বিরোধের কারণে আদানির কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছিল। গরমের শুরুতে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ এখন আগের পর্যায়ে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আদানি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিদ্যুতের দাম নির্ধারণে আদানির সঙ্গে বিরোধ আছে বাংলাদেশের। রয়টার্সের হিসাবে, অন্যান্য ভারতীয় বিদ্যুতের চেয়ে প্রায় ৫৫ শতাংশ বেশি অর্থে বাংলাদেশের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিটি বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশের একটি আদালত। ওই কমিটির প্রতিবেদন এ মাসে আসতে পারে। তখন আদানির সঙ্গে চুক্তিটি নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। আদানির শেয়ারের দাম বাড়ল ৪ শতাংশ : আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুম সামনে রেখে ভারতীয় আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই গতকাল আদানি পাওয়ারের শেয়ারের দাম এক ধাক্কায় ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।