২০২৪ সালে তিন দফা সময় বাড়ানোর পরও মাধ্যমিক স্তরের ২৩ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর অ্যাকাউন্ট নগদে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে উপকারভোগীর পছন্দের অ্যাকাউন্টেই উপবৃত্তি পান-এসব শিক্ষার্থী। গত বছর ব্যর্থতার পরও আবারও এককভাবে ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ‘সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির’ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নগদকেই। এই কর্মসূচির আওতায় বছরে ৬০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পায়। ব্যাপক সমালোচনা এবং অনিয়মের অভিযোগ থাকার পরও আবারও উপকারভোগীর পছন্দকে উপেক্ষা করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তকে বহাল রেখে এককভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের উপবৃত্তি বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হলো নগদকে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ষষ্ঠ থেকে স্নাতক সমমানের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি শুধু নগদের মাধ্যমে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে ভাতা, প্রণোদনা, উপবৃত্তি বিতরণে একচ্ছত্র আধিপত্য পেয়েছে নগদ। নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও নগদের মাধ্যমেই চলছে ভাতা বিতরণ। উপকারভোগীর পছন্দের অ্যাকাউন্টে ভাতা বিতরণের মতো বৈষম্যহীন, ন্যায্য পদ্ধতি বাতিল করে একক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভাতা বিতরণের সিদ্ধান্ত এখনো অব্যাহত রাখল সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি বিতরণের জন্য সব অ্যাকাউন্ট নগদে রূপান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তিন দফায় সময় বাড়িয়েও নগদ এই রূপান্তরে ব্যর্থ হয়। তখন তড়িঘড়ি করে ২০২৩ সালের জুন ডিসেম্বর কিস্তির ২৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারি-জুন কিস্তির ২৩ লাখ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি তাদের পছন্দের অ্যাকাউন্টে বিতরণ করা হয়।
এত অব্যবস্থাপনার পরও এবার আবারও একক প্রতিষ্ঠানকে উপবৃত্তি বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ উপেক্ষা করে বিগত সরকারের সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও সুবিধা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি উপকারভোগীর পছন্দের অ্যাকাউন্টে উপবৃত্তি বিতরণ ব্যবস্থা বাতিল করে বিগত সরকারের প্রভাব খাটিয়ে সব উপবৃত্তি একক প্রতিষ্ঠান নগদের মাধ্যমে বিতরণ করার আদেশ জারি করা হয়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে নগদের অনিয়ম এবং প্রভাব খাটিয়ে কাজ পাওয়ার বিষয়গুলো বারবার উঠে আসে। অসংখ্য সমালোচনা থাকার পরও আবারও একই পথে হাঁটল প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। কেবল মাধ্যমিক স্তর নয়, বিগত সরকারের প্রভাব খাটিয়ে প্রাথমিকের উপবৃত্তি বিতরণেও এককভাবে নেয় নগদ। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার সিংহভাগও বিগত সরকারের মদত পুষ্ট এই প্রতিষ্ঠানের দখলে। এদিকে গত সরকারের আমলে জালিয়াতির অভিযোগে নগদের সাবেক কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুল হক গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিগত সরকারের আমলে করা চুক্তির অধীনেই নগদকে উপবৃত্তি বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।