পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় স্থানীয় রাখাইন কমিউনিটির উদ্যোগে ওড়ানো হয় অর্ধশতাধিক বর্ণিল ফানুস। এতে সেখানকার আকাশ বর্ণিল রূপ ধারণ করে। ফানুসে বর্ণিল আকাশে ঝলমলে আলোর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করেন পর্যটকসহ নানা বয়সের মানুষ। ফানুস উৎসবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোকছেদুল আলম, কলাপাড়া লেডিস ক্লাবের সভাপতি সুমাইয়া সাইমুন এমা, কুয়াকাটা খানাবাদ কলেজের শিক্ষক ড. শহিদুল ইসলাম শাহিনসহ স্থানীয় রাখাইন কমিউনিটির নেতারা। স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন জানান, সাধারণত এ প্রবারণা পূর্ণিমায় বর্ণিল ফানুস ওড়ানো হয়। কিন্তু এ প্রথম তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে ৫০টি ফানুস আকাশে ওড়ানো হয়েছে।
এগুলো ১৫ দিন ধরে রং-বেরঙের কাগজ এবং বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২৪ হাত লম্বা একটি প্যারাসুট ফানুসও ছিল। একদা এলাকায় ফানুস উৎসব ছিল ঐতিহ্য। কিন্তু কালের বিবর্তনে তা যেন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। রাখাইনদের অতীত ঐতিহ্য যেন হারিয়ে না যায় এ ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
উৎসব প্রসঙ্গে স্থানীয় রাখাইন কমিনিউটির নেতা মং বলেন, তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়েছে। এজন্য উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ উপলক্ষে রাখাইনদের সম্পৃক্ত করে ফানুস উৎসব করা হয়েছে। এ ছাড়া তারুণ্যের উৎসব নৌকা বাইচ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের জন্য একটি কৃত্রিম রাখাইনপাড়া স্থাপন করা হবে। যেখান থেকে রাখাইন সম্প্রদায়ের কৃষ্টিকালচার জানতে পারবে পর্যটকরা। মূলত রাখাইদের ইতিহাস বাদে কলাপাড়া কুয়াকাটার ইতিহাস অসম্পূর্ণ। তাই এ অনুষ্ঠান অব্যাহত রাখা হবে।