নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মামুন হোসাইন নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল ভোরে ফতুল্লার পূর্ব লালপুর এলাকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মামুন হোসাইন ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি ফতুল্লার পূর্ব লালপুর এলাকার মৃত সমন আলী বেপারীর ছেলে।
বড় ভাই আমজাদ বলেন, ‘মামুন বাসায় ঘুমিয়ে ছিল। ভোরে কে বা কারা বাসা থেকে ডেকে রেললাইনসংলগ্ন মামুনের মালিকানাধীন মা-বাবার দোয়া নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে নিয়ে যায়। সেখানেই মামুনকে গুলি করে হত্যার পর পালিয়ে যায় ঘাতক চক্র। গুলির শব্দ শুনে বাসা থেকে বের হয়ে দেখতে পাই তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনেই মামুনের নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। পরে তাকে খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
স্ত্রী ইয়াছমিন বলেন, ‘অনেক রাতে বাসায় ফিরে শার্ট-প্যান্ট পরেই ভাত খেয়ে শুয়ে পড়ে সে। মামুন ইট-বালুর ব্যবসা করত। যার কারণে প্রায় সময়ই লোকজন তাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। শুক্রবার ভোরে একইভাবে বাসা থেকে কে যেন ডেকে নিয়ে যায় আমার স্বামীকে। এরপরই শুনি আমার স্বামীকে গুলি করে রাস্তায় ফেলে রেখে গেছে সন্ত্রাসীরা। কী কারণে আমার স্বামীকে এভাবে হত্যা করল? আমার দুই সন্তানকে এতিম করে দিয়ে গেল। আমি হত্যাকারীদের বিচার চাই।’
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এই হত্যাকান্ড হয়ে থাকতে পারে। অভ্যন্তরীণ বিরোধ, পূর্বশত্রুতা, ব্যবসায়িক বিরোধসহ সব বিষয় সামনে রেখে আমরা তদন্ত করছি। আশা করছি খুনিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে পারব।’